সম্পাদকীয়
ছবি: সংগৃহীত

জুমার দিন আগেভাগে মসজিদমুখী হওয়ার প্রেরণা।

সম্পাদকীয়:

হজ ও উমরাহ মুসলিম জীবনের এক অনন্য অধ্যায়। মক্কা ও মদিনার পবিত্র ভূমিতে ইবাদতের যে আবহ, তা প্রতিটি হাজির হৃদয়কে নাড়া দেয়।
বিশেষত জুমার দিন—দূরদূরান্ত থেকে আসা হাজিরা নামাজ শুরুর অনেক আগেই মসজিদে নববী বা মসজিদুল হারামে উপস্থিত হন। কেউ কোরআন তিলাওয়াত করছেন, কেউ নীরবে তসবিহ পাঠ করছেন, কেউবা অশ্রুসিক্ত নয়নে দোয়ায় মগ্ন। এ এক প্রশান্ত, আধ্যাত্মিক পরিবেশ, যা দেখলে মনে হয়, মানুষ যেন দুনিয়ার সব ব্যস্ততা ভুলে কেবল আল্লাহর সান্নিধ্যে ডুবে গেছে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশে ফিরে এসে আমরা প্রায়শই সেই তীব্র আকর্ষণ ও প্রস্তুতির চর্চা হারিয়ে ফেলি। জুমার নামাজে অংশগ্রহণ করি বটে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা হয়ে ওঠে এক প্রথাগত আচার। অনেকে খুতবার মাঝামাঝি কিংবা নামাজ শুরুর কিছু আগে মসজিদে প্রবেশ করেন। ইবাদতের মানসিক প্রস্তুতি, আত্মিক শৃঙ্খলা এবং আল্লাহর সান্নিধ্যের সেই আকুলতা যেন কোথাও মিলিয়ে যায়। এর কারণ কী? মূলত দুইটি দিক সামনে আসে। প্রথমত, আমরা পবিত্র স্থানকে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু পবিত্র সময়ের মর্যাদা যথাযথভাবে উপলব্ধি করি না। দ্বিতীয়ত, সফরের ইবাদতকে বিশেষ মনে করি, অথচ দৈনন্দিন ইবাদতকে অবহেলা করি। অথচ ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, সময় ও স্থান উভয়কেই সমানভাবে সম্মান করতে। মক্কা-মদিনার মর্যাদা যেমন চিরকালীন, তেমনি জুমার দিনের মাহাত্ম্যও প্রতিটি সপ্তাহে আমাদের জন্য বিশেষ। জুমার দিনে আগে গিয়ে মসজিদে বসা শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি বিশাল সওয়াব ও বরকতের পথ। হজ ও উমরাহ আমাদের যে আত্মিক শিক্ষা দেয়, তা যদি কেবল সফরের স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে সেটি হবে এক অপূর্ণ সাধনা। প্রকৃত হজের ফল তখনই প্রকাশ পায়, যখন সে শিক্ষা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিফলিত হয়। তাই আমাদের উচিত, দেশে ফিরে এসে প্রতিটি জুমাকে মক্কা-মদিনার ইবাদতের মতোই মর্যাদা দেওয়া। নামাজের অনেক আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়া, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় মগ্ন থাকা—এসবকে জীবনের অভ্যাসে পরিণত করা। এটি শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং আত্মিক শৃঙ্খলা ও ঈমানের প্রকাশ। বায়তুল্লার ভালোবাসা যেন কেবল সফরের স্মৃতি না হয়, বরং প্রতিটি জুমায় প্রতিফলিত হয়। হজ আমাদের শিখিয়েছে আল্লাহর ইবাদতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে—এখন সেই শিক্ষা দেশের প্রতিটি মসজিদে, প্রতিটি জুমার দিনে বাস্তবায়ন করার সময়।

এম সুজন হোসাইন 
সম্পাদক ও প্রকাশক 

মতামত দিন