এদের কি কোনো লজ্জা নেই? কোথায় লুকাবো আমাদের লজ্জা?
সম্পাদকীয়:
আমরা, এই দেশের মানুষ, এই জাতির সন্তান—কোথায় লুকাবো আমাদের লজ্জা? আমরা কি উত্তর দেব ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যখন তারা জিজ্ঞেস করবে—“তোমরা কি করেছিলে যখন দেশের সম্পদ লুট হচ্ছিল?” আজকের নীরবতা কাল আমাদের পরিচয় মুছে দেবে। সাদা পাথর হারানো মানে শুধু অর্থ হারানো নয়—এটি মানহানি, এটি আত্মপরিচয়ের ক্ষয়, এটি জাতীয় অপমান।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ—একসময়ের গর্ব, আজ লুটেরাদের খেলাঘর। ধলাই নদীর বুকে পাহাড়ি ঢলে আসা সাদা পাথর ছিল এক অনন্য প্রাকৃতিক রত্ন, যা পর্যটন, অর্থনীতি আর সংস্কৃতির সম্পদ হতে পারত। কিন্তু সেসব স্বপ্নকে গিলে খেল লোভ, গিলে খেল ক্ষমতার ছত্রছায়ায় জন্ম নেওয়া কালো বাজার।
প্রশাসনের চোখের সামনে দিনের বেলায় নৌকা ভরে চলছে পাথরের ডাকাতি—এ যেন সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত চুরি। কয়েক সপ্তাহ আগেই পাহাড়ি ঢল এনে দিয়েছিল কোটি কোটি টাকার পাথর, আর কয়েক দিনের মধ্যেই সব উধাও। যে নদীর বুক ভরে থাকার কথা পাথরের ঝলক, সেখানে এখন পড়ে আছে কেবল বালুর স্তূপ—যেন লুটেরাদের হাড়হিম হাসির পর নিঃশব্দ শ্মশান।
আমরা ভুলে গেছি—এই সাদা পাথর শুধু স্থাপত্যের উপাদান নয়, এটি আমাদের দেশের মুখ।লুটেরাদের রঙ সবসময়ই কালো। আজ যারা এই লুটের পেছনে আছে, কাল তারা গর্ব করে বলবে না, “আমরা সাদা পাথর রক্ষা করেছি”—বরং ইতিহাস বলবে, “তারা দেশের সম্পদ খেয়ে ফেলেছিল।”
এই সাদা পাথর কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ নয়—এটি আমাদের ভূখণ্ডের সৌন্দর্যের অংশ, আমাদের পরিচয়ের অংশ। অথচ যারা এই লুটের নায়ক, তারা যেন নিজেদের দেশেরই শত্রুতে পরিণত হয়েছে।যে-ই লুটের পেছনে থাকুক, তার নাম ইতিহাসের কালো পাতায় লেখা থাকবে।
এদের কি কোনো লজ্জা নেই? এদের কি বুকের ভেতর দেশের জন্য বিন্দুমাত্র মমতা নেই?
এদের বুকের ভেতর কি দেশপ্রেমের এক ফোঁটা রক্তও আছে? নাকি দুর্নীতিবাজদের আত্মা আগেই বিক্রি হয়ে গেছে কালোবাজারে? যারা দেশের সম্পদ লুট করে, তারা দেশের শত্রু, জাতির বিশ্বাসঘাতক।
আমরা জনগণও চুপচাপ বসে থেকে সহযোগী হয়ে যাচ্ছি। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যখন জিজ্ঞেস করবে—“তোমরা কী করেছিলে যখন তোমাদের দেশের রত্ন লুট হচ্ছিল?”—তখন কি আমরা বুক ফুলিয়ে উত্তর দিতে পারব? না, পারব না। কারণ আজকের নীরবতা আমাদের আগামী দিনের পরিচয় মুছে দেবে।
যদি এখনো দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকে, তাহলে এই লুটেরাদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা হোক, আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হোক, আর এই সাদা পাথরের লাশের বিচার করা হোক। নাহলে ইতিহাস আমাদের সবাইকে একই খাতায় লিখে দেবে—অপরাধী।
এম সুজন হোসাইন
সম্পাদক ও প্রকাশক
মতামত দিন