সম্পাদকীয়
ছবি: সংগৃহীত

আগস্টে এক ফ্যাসিবাদের পতন—কিন্তু সত্যিকার মুক্তি কি মিলেছে?

সম্পাদকীয়:

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হয়—ছাত্রদের নেতৃত্বে শুরু হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন, যা অল্প সময়ের মধ্যেই রূপ নেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে তখন জমে উঠেছে বছরের পর বছর ধরে দমন, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার একচ্ছত্র প্রয়োগের ক্ষোভ।
ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সরকারের চোখে হয়ে ওঠে হুমকি, আর সেখান থেকেই শুরু হয় ভয়াবহ দমননীতি। ঢাকা ও দেশের নানা প্রান্তে পুলিশের গুলি, ছাত্রদের পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার আর গুম—এই অমানবিক নিষ্পেষণের মুখে আন্দোলন আর শুধু কোটা বা বৈষম্যের বিরুদ্ধে থাকে না; হয়ে ওঠে একদফার আন্দোলন—শুধু এক দাবিতে: শেখ হাসিনার পদত্যাগ। অবস্থা আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ৪ আগস্ট ছাত্ররা আকস্মিক ঘোষণা দেয়, “মার্চ টু ঢাকা” ৬ তারিখ নয়—৫ আগস্টেই হবে। সরকার তখন ইন্টারনেট বন্ধ করে,মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করে আন্দোলনের গতি রুখতে চায়। কিন্তু ততক্ষণে দমননীতির বিরুদ্ধে জাতির প্রতিরোধ ভেঙে যায়নি। লক্ষ লক্ষ মানুষ, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, পেশাজীবী মিলে ৫ আগস্ট ভোর থেকেই ঢাকার পথে নেমে আসে। দাবি একটাই—স্বৈরাচারের পতন।
চাপের মুখে, সেনাবাহিনীর ভেতরের একটি অংশের নীরব সহযোগিতায়, অবশেষে সেই দুপুরে, ১টা নাগাদ, শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। ভারতের উদ্দেশ্যে গোপনে পালিয়ে যান—একটি যুগের অবসান ঘটে। পঁচিশ বছর বয়সী গণতন্ত্র অবশেষে মুক্ত হয় দীর্ঘ পনেরো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে। কিন্তু আজ যখন আগস্ট আবার ফিরে এসেছে, প্রশ্ন একটাই—ফ্যাসিবাদের পতন মানেই কি গণতন্ত্রের সূচনা? শেখ হাসিনার আমলে প্রশাসন, সেনা ও পুলিশ বাহিনীতে যে অনাচার-সহযোগিতার বীজ রোপিত হয়েছিল, তা কি নির্মূল হয়েছে? যারা এত বছর ধরে স্বৈরাচারী শাসনকে লালন করেছে, তারা কি আজও অন্য নামে, অন্য মুখে ক্ষমতায় নেই?
ফ্যাসিবাদ শুধু একজন নেতার নাম নয়—এটা একটি মানসিকতা, একটি কাঠামো। আজকের এই আগস্টে আমাদের দায়িত্ব—নতুন করে জিজ্ঞাসা করা, নতুন করে সচেতন হওয়া।কারণ ফ্যাসিবাদের ছায়া যতদিন পুরোপুরি নির্মূল না হয়, ততদিন আগস্টের মুক্তি অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।

এম সুজন হোসাইন
সম্পাদক ও প্রকাশক

মতামত দিন