“দল নয়, দেশ আগে- শুধু উন্নয়ন নয়, চাই ন্যায্যতা ও জবাবদিহিতার রাষ্ট্র”
সম্পাদকীয়:
নতুন নির্বাচন আসলেই পুরনো সংঘাতের বৃত্ত। সেই সংঘাতের খেসারত দিতে হয় সাধারণ মানুষকে—যারা আজও নিরাপদ পানি চায়, সাশ্রয়ী বাজারদর চায়, কিন্তু পায় না। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেন ফ্যাসিস্ট মনোবৃত্তির খাঁচায় বন্দী। ভিন্নমত মানেই শত্রু, সমালোচনা মানেই ষড়যন্ত্র। অথচ রাজনীতি কোনো দলের সম্পত্তি নয়—এটি জনগণের স্বার্থ রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব। কিন্তু আমাদের চোখের সামনে লুটপাটের রাজনীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। তোষণ আর দাপটই যেন যোগ্যতা। সেই বিষাক্ত সংস্কার আর নয়—এখন প্রয়োজন কার্যকর সংস্কার, যেখানে জবাবদিহিতা থাকবে, থাকবে সাধারণ মানুষের স্বার্থ।
জাতীয় সরকার গঠনের যে দাবি আজ উঠছে, তা নিছক আবেগ নয়—বরং এটি দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রতিফলন। জনগণ আর নির্বাচনমুখী ক্ষমতার খেলা দেখতে চায় না। তারা চায় এমন নেতৃত্ব, যা উন্নত শিক্ষা, আধুনিক চিকিৎসা, পরিকল্পিত নগরায়ন, সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করবে। নিরাপত্তা আর মর্যাদা চাইলে শুধু আইন-শৃঙ্খলা নয়, অর্থনৈতিক সুযোগেরও দরকার। সুদের হার কমাতে হবে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা সুশাসনের আওতায় আনতে হবে, টাকা পাচারের রোধে শক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর তোষণমূলক সংস্কৃতি বাদ দিয়ে, কর হ্রাস আর স্বচ্ছ প্রণোদনা দিতে হবে যাতে মানুষ সঞ্চয় রাখে, উদ্যোগী হয়।
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সেলফ-ডিফেন্স ও প্যারামিলিটারি প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় হতে পারে—কিন্তু সেটি যেন কোনো দলীয় দখলদারির হাতিয়ার না হয়। একইভাবে সরকারি কর্মদিবস কমিয়ে শিক্ষার মান উন্নত করতে হবে, মেধা পাচার ঠেকাতে হবে। সমাজে মানবিকতার বীজ বুনতে হবে—যেখানে শিক্ষিত মেয়েরা বেকার ছেলেকে সঙ্গী হিসেবে বিবেচনা করবে, পরিবারে সন্তানের প্রতি দায়িত্ব হবে আইনত বাধ্যতামূলক।
সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের মনে রাখতে হবে, ব্যালটের কাগজ কোনো রাজনৈতিক দলের চিরস্থায়ী সম্পদ নয়—এটি জনগণের ঈমান। এই ঈমান বিক্রি করলে শুধু আমাদের ভবিষ্যৎ নয়, আমাদের আত্মমর্যাদাও বিলীন হবে। হ্যাঁ, ভারত আমাদের প্রতিবেশী। বন্ধু হতে হলে পারস্পরিক সমানাধিকারের ভিত্তিতে সম্মানবোধ থাকতে হবে। অন্ধ পররাষ্ট্রনীতি আর নয়। বাংলাদেশের মানুষ এখন রাজনীতির নোংরামি আর দেখতে চায় না। তারা চায় ন্যায্যতার, সততার, আর জনগণের স্বার্থের এক নতুন অধ্যায়। সেই অধ্যায় রচনা করতে হলে দলমত নির্বিশেষে এক বৃহত্তর ঐক্য গড়তে হবে।
এম সুজন হোসাইন
সম্পাদক ও প্রকাশক
মতামত দিন