বুদ্ধিবৃত্তিক সাহসিকতার লড়াই শুরু আজ "পরীক্ষার টেবিলে আজ ভবিষ্যতের বাংলাদেশ"
সম্পাদকীয়ঃ
আজ ২৬ জুন ২০২৫, দেশের ১২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। শুরু হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি), আলিম ও সমমানের বোর্ড পরীক্ষা।
এই পরীক্ষা কেবল একটি একাডেমিক মূল্যায়নই নয়, এটি একজন শিক্ষার্থীর মনন, অধ্যবসায় ও আত্মনিবেদন কতটুকু গভীর—তারও এক বাস্তব পরীক্ষার নাম।
এ বছর প্রায় ১২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি, আলিম ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অংশ নিচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১১টি সাধারণ বোর্ড, ১টি মাদ্রাসা বোর্ড ও ১টি কারিগরি বোর্ডে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী নানা সংকট এবং দেশীয় পর্যায়ে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন-পরিমার্জনের মধ্য দিয়ে এবারও কিছু চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে। বিশেষ করে চলমান বৈশ্বিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা, মানসিক চাপ মোকাবিলা এবং প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ছিল একটি চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার্থীরা যেভাবে সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।সেগুলো অতিক্রম করে শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসের সাথে পরীক্ষার হলে পা রাখছে, যা একটি আশাব্যঞ্জক দিক।
পরীক্ষার্থীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
১.মনোসংযোগ ও নিয়মিত রুটিন:
শেষ মুহূর্তে নতুন কিছু মুখস্থ করার চেয়ে যা পড়েছো, তা ভালোভাবে ঝালাই করো। প্রতিদিন ঘুম, খাবার ও পড়াশোনার জন্য একটি স্থিতিশীল রুটিন অনুসরণ করো।
২.মোবাইল ও সামাজিক মাধ্যম থেকে বিরতি:
পরীক্ষার সময় অহেতুক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে মনোযোগ বিঘ্নিত হয়। সীমিত ব্যবহার করো—শুধু প্রয়োজনীয় যোগাযোগ বা বিশ্রামের সময়।
৩.পরীক্ষার আগের দিন বিশ্রাম:
অনেকেই পরীক্ষার আগের রাতে না ঘুমিয়ে পড়ে—এটি মারাত্মক ভুল। নিরবিচারে পড়া নয়, বরং ঘুমিয়ে মস্তিষ্ককে বিশ্রামে রাখা বেশি কার্যকর।
৪.আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক মনোভাব:
ভুল-শুদ্ধ হতেই পারে, কিন্তু আত্মবিশ্বাস হারালে পুরো প্রস্তুতি ভেস্তে যেতে পারে। নিজেকে মনে করিয়ে দাও—“আমি পারব।”
৫.পরীক্ষার হলে নিয়ম মেনে চলা:
প্রশ্ন বুঝে পড়া, সময় ভাগ করে লেখা এবং খাতা জমা দেওয়ার সময় কিছুটা আগে প্রস্তুত হওয়া—এসবই ভালো ফলাফলের জন্য জরুরি।
অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ
•সন্তানদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করুন।
•পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করুন, কিন্তু তাদের ব্যক্তিগত সময় ও বিশ্রামকে হরণ করবেন না।
•পরীক্ষায় ফলাফল যাই হোক না কেন, তাদের পাশে থাকুন—কারণ ভালো ফলাফলের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সুস্থ মানসিকতা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের প্রতি দায়িত্ব
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জাতীয় জীবনের একটি বড় কর্মকাণ্ড। তাই প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশ্নফাঁস, বিভ্রান্তিমূলক গুজব রটানো ও অনৈতিক সহায়তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।
পরিশেষে শুভ কামনা
এইচএসসি, আলিম ও সমমানের সকল পরীক্ষার্থীকে জানাই আন্তরিক শুভ কামনা। এই পরীক্ষা জীবনের একটি ধাপ মাত্র, শেষ নয়। পরবর্তী পথে এটি তোমাদের জন্য একটি প্রস্তুতির ধাপ। আত্মবিশ্বাস, সততা ও নিষ্ঠাই তোমাদের সফলতা নিশ্চিত করবে।
পরীক্ষা হোক নকলমুক্ত, শান্তিপূর্ণ এবং মেধার সত্যিকারের মূল্যায়ন—এটাই হোক আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার।
“পড় তোমার প্রভুর নামে”—এই বাণী যেন প্রতিটি পরীক্ষার্থীর মন্ত্র হয়। জয় হোক মেধার, জয় হোক সততার।
এম সুজন হোসাইন
সম্পাদক ও প্রকাশক

মতামত দিন