প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ গ্রামে ফিরছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা চট্টগ্রামে যাচ্ছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর তিনি ফিরছেন শৈশবের গ্রাম হাটহাজারীর শিকারপুর ইউনিয়নের বাথুয়ায়।
জানা গেছে, আগামী বুধবার (১৪ মে) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তনে অংশগ্রহণ শেষে বিকেলে তিনি রওনা হবেন পৈতৃক ভিটায়। বিকেল ৫টায় তিনি হাজি মোহাম্মদ নজু মিঞা সওদাগর বাড়ির অদূরে নুরালী বাড়ি উপ-ডাকঘর সংলগ্ন কবরস্থানে গিয়ে দাদা-দাদির কবর জিয়ারত করবেন। এরপর পাশের মাঠে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন।
বাথুয়া গ্রামে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, হাটহাজারী উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের বাস্তবায়নে সদ্য নির্মিত হাজি মোহাম্মদ দুলা মিয়া সওদাগর সড়ক ও কবরস্থানের চুনকামের কাজ চলছে পুরোদমে। পাশাপাশি গ্রামকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে সৌন্দর্যবর্ধনের নানা উদ্যোগ।ড.ইউনূসের বাবার পৈতৃক বাড়ির ভাঙা ঘর ভেঙে নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন ঘর, ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে বসানো হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ শৌচাগার। বাড়ির মাঠও পরিষ্কার করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে গণসংবর্ধনার মতো আয়োজনে।
স্থানীয়রা জানান, ড. ইউনূসের পরিবার বিগত ৫০-৬০ বছর ধরে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ এলাকায় বসবাস করছেন। তবে তার জন্ম হয়েছিল ১৯৪০ সালের ২৮ জুন বাথুয়া গ্রামে হাজি এম নজু মিয়া সওদাগর বাড়িতে। আট ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।
হাটহাজারীর ইউএনও এ বি এম মশিউজ্জামান বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে গ্রামে তার এই আগমন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাকে যথাযথ সম্মান ও নিরাপত্তা দিতে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “চট্টগ্রামের জনগণ তাদের গর্বের সন্তানকে বরণ করতে প্রস্তুত। এই ঐতিহাসিক সফর সফল করতে আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছি।”
চট্টগ্রামে ড.ইউনূসের আগমনকে ঘিরে যেমন বাড়ছে উৎসাহ-উদ্দীপনা,তেমনি স্থানীয় প্রশাসনও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এই সফরের প্রতিটি পর্যায়ে।
মতামত দিন