রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আলোচনা: বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সম্ভাব্য তালিকা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠনের অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এমপি ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম এসেছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খান। তবে জোরালো আলোচনা হচ্ছে মির্জা ফখরুল ও মোশাররফ হোসেনের নাম নিয়ে। রাষ্ট্রপতি না হলে মঈন খানকে স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়ার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন সরকারের শপথের পর পদত্যাগ করতে পারেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকলেও তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
বিএনপির সিনিয়র নেতাদের রাজনৈতিক জীবন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগদান করেন এবং জেলা শাখার সভাপতি হন। ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও ২০১৬ সালে স্থায়ী মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে জয়ী হন এবং কৃষি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা–১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এর আগে চারবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। দলের কার্যক্রমে তিনি কম সক্রিয়, নিজেকে কিছুটা আড়ালে রাখেন।
নজরুল ইসলাম খান রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকলেও নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী-উপদেষ্টার পরামর্শে তিনি রাজনৈতিক উপদেষ্টা হতে পারেন।
ড. আবদুল মঈন খান চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।
এই তালিকা থেকে এক জনই হতে পারেন দেশের আগামী রাষ্ট্রপতি। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথের পর বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।
মতামত দিন