নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ছেলে বিজয়ী, বাবা হারালেন জামানত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে নজরকাড়া ঘটনা ঘটেছে—এক পরিবারে বাবা এবং ছেলে পৃথক দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে বাবার জন্য।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ এই আসনে শাপলা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়ী হন।
অন্যদিকে বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক একতারা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মাত্র ৫০৫ ভোট পান এবং নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী জামানত হারান। নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। শাপলা কলি ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ছাড়া আরও আটজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
আসনের অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল আজিম ৪ হাজার ৭৮৩ ভোট, ফুটবল প্রতীকের তানভীর উদ্দিন রাজিব ৩ হাজার ৭৬৪ ভোট, হাতপাখা প্রতীকের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ ২ হাজার ১৭৯ ভোট, তারা প্রতীকের মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব ১ হাজার ২৩৯ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকের এটিএম নাবী উল্যাহ ২৮০ ভোট, ট্রাক প্রতীকের মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন ১৯১ ভোট এবং ছাতা প্রতীকের মোহাম্মদ আবুল হোসেন ৮৬ ভোট পান।
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৪ জন। মোট প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩২ এবং বাতিল ভোটের সংখ্যা ৫ হাজার ৩৬৭। ভোটদানের হার ৫১.৪০ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯২৫ এবং ‘না’ ভোট ৫৩ হাজার ২৪৮।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও হাতিয়া ইউএনও মো. আলাউদ্দিন জানান, হাতিয়ায় নির্বাচন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যদিও নির্বাচন-পরবর্তী কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর এসেছে। তিনি বলেন, “বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া নানা দিক থেকে বঞ্চিত, আশা করি সবাই মিলে এই জনপদকে আলোকিত করবে।”

মতামত দিন