কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় নির্বাচনি প্রচার ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর সমর্থকদের বিরুদ্ধে নির্বাচনি ব্যানার খুলে ফেলা ও পরিকল্পিত হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ সাইফুল ইসলামসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য দেন যুব অধিকার পরিষদ কুমিল্লা (উত্তর) জেলার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জসীম উদ্দিনের প্রধান নির্বাচন প্রস্তাবকারী মো. রাসেল হোসেন বেগ।
রাসেল হোসেন অভিযোগ করেন, তাদের নির্বাচনি প্রচারণা নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, এলাহাবাদ হাইস্কুলের দক্ষিণ পাশে ট্রাক প্রতীকের একটি ব্যানার টানানো থাকলেও তা সরিয়ে সেখানে এনসিপি প্রার্থীর শাপলা প্রতীকের বিলবোর্ড বসানো হয়েছে। এ সময় প্রতিবাদ জানালে ভয়ভীতি দেখিয়ে সরে যেতে বলা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
আরও অভিযোগ করা হয়, এলাহাবাদ থেকে জাফরগঞ্জ সড়ক পর্যন্ত পাঁচটি নির্বাচনি ব্যানার খুলে নেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে তাদের দাবি।
এছাড়া খাইয়ার গ্রামে একটি ব্যানার পোড়ানোর ঘটনাকে ঘিরেও সন্দেহ প্রকাশ করেন রাসেল হোসেন বেগ। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আগুন লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে খুব দ্রুত ভিডিও ধারণ করা হলেও ঘটনাস্থলে কারা আগুন দিয়েছে—সে বিষয়টি ভিডিওতে ধরা হয়নি। একই ধরনের ঘটনা হারসসার গ্রামেও ঘটেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
তাদের দাবি, এসব ঘটনার জেরে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রায় ৪৭ জনের নাম রয়েছে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সাঈদ সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ওই তালিকার ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাড়ি বাড়ি তল্লাশির নামে নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, কোনো পক্ষ যেন নিজেদের ব্যানার পুড়িয়ে অন্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করতে না পারে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তল্লাশির নামে হয়রানি বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

মতামত দিন