স্বাস্থ্যসেবা থেকে নদীভাঙন—ক্ষমতায় গেলে ফরিদপুরকে ঘিরে যে প্রতিশ্রুতির কথা বললেন তারেক রহমান
দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে—এই অভিযোগ তুলে ক্ষমতায় এলে স্বাস্থ্যখাতকে নতুনভাবে সাজানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মানুষ অসুস্থ হলে হাসপাতালের দরজায় ঘুরছে, কিন্তু ডাক্তার নেই, ওষুধ নেই।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) ফরিদপুর শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। বরিশালে নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে হেলিকপ্টারে ফরিদপুর পৌঁছে সরাসরি জনসমাবেশে বক্তব্য দেন তারেক রহমান।
তার বক্তব্যে উঠে আসে নতুন এক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর কথা। বিএনপি সরকার গঠন করলে গ্রামভিত্তিক হেলথ কেয়ার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এসব কর্মী নারী ও শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেবেন নিজ নিজ বাড়িতে গিয়ে, যাতে ছোটখাটো রোগে হাসপাতালে যেতে না হয় এবং ভোগান্তি কমে।
ফরিদপুর অঞ্চলকে ঘিরে প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনার কথাও জানান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে প্রয়োজন হলে ফরিদপুরকে বিভাগ করার সিদ্ধান্ত নিতে বিএনপি পিছপা হবে না। একইসঙ্গে পদ্মা ও আশপাশের নদীগুলোর ভাঙনকে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অভিশাপ উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্ষমতায় গেলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কৃষিখাতে সহায়তা বাড়াতে বিশেষ কৃষক কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজেই বীজ, সার ও কীটনাশক পাবে। নারীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী—তাদের স্বাবলম্বী করতে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনা করছে।
রাজনৈতিক বক্তব্যে ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একাত্তরে অস্ত্র হাতে স্বাধীনতা এসেছে, আর সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করা হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে তিনি অভিযোগ করেন, নারীদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়ে তারা আবারও তাদের পুরোনো মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যদি জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে পারে, তাহলে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশে জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হবে।
দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সুশাসন ও সঠিক নীতি থাকলে এই অঞ্চল কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানে দেশের অর্থনীতির মূল শক্তিতে পরিণত হতে পারে। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর দায়িত্ব তাদেরই, কারণ বিএনপি বিশ্বাস করে—রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ।
জনসভায় ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার ১৫ জন ধানের শীষের প্রার্থীসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দুপুরের আগেই কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকা বিপুল জনসমাগমে পরিণত হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, এটিই ছিল ফরিদপুরে তারেক রহমানের প্রথম জনসভা।

মতামত দিন