রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

খেলাফত মজলিসের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা–১৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আল্লামা মামুনুল হক তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই ইশতেহারে রাজধানীর নাগরিক জীবনের জটিল ও দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে।

ঘোষিত ইশতেহারে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, নিরাপদ নগরজীবন, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। প্রার্থী জানান, ভূমি সেবা, ট্রেড লাইসেন্স ও জন্মনিবন্ধনসহ সব নাগরিক সেবাকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আনলে দালালচক্রের প্রভাব বন্ধ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ, ঠিকাদারি ও কাজের অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সন্ত্রাস, মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেওয়া হয়। মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কিশোর গ্যাং সমস্যাকে সামাজিক ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করে সংশোধনমূলক উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

নগর নিরাপত্তা জোরদারে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি স্থাপন, পর্যাপ্ত সড়কবাতি এবং পুলিশি টহল বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। বাজার, টার্মিনাল ও অফিস এলাকায় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের পাশাপাশি টেন্ডারবাজি ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজি বন্ধের অঙ্গীকার করা হয়।

যানজট নিরসন ও নগর ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে অসমাপ্ত সড়ককাজ দ্রুত শেষ করা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, অবৈধ নির্মাণসামগ্রী অপসারণ এবং সড়ক দ্বীপে সবুজায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়। বেড়িবাঁধের সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়ে সংযোগ এবং মেট্রোরেল সুবিধা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে।

জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ সমস্যার সমাধানে রামচন্দ্রপুর খালসহ সব খাল অবমুক্ত করা এবং সমন্বিত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কথা বলা হয়। একই সঙ্গে আধুনিক ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

ব্যবসা ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে বলা হয়, “এক ছাতার নিচে সব সেবা” নীতির মাধ্যমে লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। স্থানীয় শিল্প, ক্ষুদ্র কারখানা ও ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন ও আধুনিক ল্যাব স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ, আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার চালু এবং বেদখল হওয়া খেলার মাঠ পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করা হয়।

গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় দুর্নীতি বন্ধ করে ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ঢাকার অন্যান্য এলাকার তুলনায় বৈষম্যমূলক সেবা বন্ধ করার কথাও উল্লেখ করা হয়।

স্বাস্থ্যখাতে সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সক্ষমতা বাড়ানো, চিকিৎসক ও নার্স সংকট নিরসন এবং আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে টিসিবি পণ্য ও সামাজিক ভাতা বিতরণে অনিয়ম বন্ধ এবং জেনেভা ক্যাম্প ও বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

ইশতেহারে ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় দিবসগুলো সার্বজনীন অংশগ্রহণে পালনের অঙ্গীকার করা হয়।

নারী ও শিশুর অধিকার বিষয়ে নারী নিরাপত্তায় সিসিটিভি ও হটলাইন চালু, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে নারীর কর্মসংস্থান, শিশুশ্রম বন্ধ, ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন এবং পতিতা ও হিজড়াদের সামাজিক-অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

সবশেষে ইশতেহারে মুক্তিযোদ্ধা, জুলাইযোদ্ধা ও শাপলার শহীদদের সম্মান, ভাতা ও অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং নিয়মিত জনসংযোগ, উন্মুক্ত মতবিনিময় ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে ইশতেহারটি উপস্থাপন করা হয়।

মতামত দিন