রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

হিন্দুদের সুরক্ষায় জীবন দিতে হলে আমিই হবো প্রথম শহীদ: মির্জা ফখরুল।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের উদ্দেশে সরাসরি আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ভোট দিতে গিয়ে কাউকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই এবং প্রয়োজনে নিজের জীবন দিয়েও তিনি তাদের পাশে থাকবেন।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে চিলারং ইউনিয়নে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাবেন, আবার নিরাপদে ঘরে ফিরবেন। আপনাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমি নিজে নিচ্ছি। যদি শহীদ হওয়ার প্রশ্ন আসে, তাহলে সবার আগে আমিই হবো।”

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে হিন্দু ও মুসলিম জনগোষ্ঠী একই জায়গায় দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে—ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি করা শক্তিকে আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তার ভাষায়, “এই ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী সভায় নেতাকর্মীদের দেওয়া একটি স্লোগান তাকে বিশেষভাবে নাড়া দিয়েছে—হিন্দু ও মুসলিমের মিলিত ঐক্যের প্রতিফলন হিসেবে সেটিকে তিনি সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভোটের সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিশ্রুতি জুড়ে দেওয়ার রাজনীতিতে তারা বিশ্বাস করেন না। “আমরা কখনো বলিনি, কোনো প্রতীকে ভোট দিলে স্বর্গ মিলবে। আমরা বলি—যে জায়গায় মানুষের কল্যাণ হবে, দেশের উপকার হবে, সেখানেই ভোট দেওয়া উচিত।”

ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কিছু দল ভোটকে আখিরাতের সঙ্গে জুড়ে মানুষকে ভুল পথে নিতে চাচ্ছে, যা ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারা আজও নিজেদের ভূমিকার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। “যারা স্বাধীনতার প্রশ্নে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তাদের ওপর দেশবাসা নির্ভর করতে পারে না,”—বলেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের আন্দোলনে বহু মামলা ও কারাভোগ সত্ত্বেও মানুষের ভোটাধিকার ফিরে আসাটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন।

সমাবেশের শেষ দিকে তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষে ভোট দিন। আপনাদের রায়ে জয়ী হয়ে আপনাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।”

সভা শেষে কয়েকজন সমর্থক তাকে ফুল ও টাকার মালা পরিয়ে দেন। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ বিভিন্ন স্তরের দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মতামত দিন