রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৩০

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সভায় চেয়ারের দখল নিয়ে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকরা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

এই ঘটনায় অংশ নেওয়া প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। তবে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের সমর্থকরা আগে থেকেই চেয়ারে বসেছিলেন। বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের কর্মীরা কিছু দেরিতে এসে উপস্থিত হওয়ায় চেয়ারের দখল নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

সংঘর্ষের সময় একটি মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, দুজন সাংবাদিক আহত হন এবং তাদের মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ ও সেনা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করেন, বিএনপি পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে এবং এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, জামায়াতের উগ্রপন্থীরা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। বিএনপির বহু নেতাকর্মী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজীব সাহা জানিয়েছেন, ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, ৪ জন জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন আরও ১০–১২ জন।

ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করেন। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, চেয়ারের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলেও এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


মতামত দিন