রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক হয়রানির শিকার বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন ফের মামলায়।

ভোলা জেলার চরফ্যাসনের চর কচ্ছপিয়া গ্রামের বাসিন্দা আলাউদ্দিন চৌকিদার (৫৫) পেশায় একজন মৎস্য ব্যবসায়ী। প্রায় তিন দশক ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এ নেতা বর্তমানে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তিনি একের পর এক মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

২০০৯ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে ১৯টি রাজনৈতিক মামলা হয়, যার মধ্যে ১৭টি মামলায় তিনি খালাস পেলেও দুটি মামলা এখনো চলমান। এরই মধ্যে গত ২১ এপ্রিল নতুন করে তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে—গত বছরের ৫ আগস্ট ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে বিএনপির আন্দোলনের সময় হাবিবুর রহমান নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় আলাউদ্দিন চৌকিদার ১৫৯ নম্বর আসামি।

আলাউদ্দিন জানান, মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী মীম আক্তার আঁখি নিজেই বলেছেন, তিনি কোনো আসামিকে চেনেন না, শুধু এজাহারে স্বাক্ষর করেছেন। বাদীর দাবি অনুযায়ী, মামলার সব কিছু পরিচালনা করেছে একটি সংগঠন—‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’।

তবে ফাউন্ডেশনটির জেনারেল ম্যানেজার সোহেল মিয়া বলেন, “সংগঠনের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের তথ্য সঠিক নয়। আমাদের এ বিষয়ে কোনো এখতিয়ার নেই। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ প্রতারণা করছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার জানিয়েছেন, “মামলাগুলো স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। যেসব ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা নেই, তাদের অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হবে।”

আলাউদ্দিন চৌকিদারের অভিযোগ, “আওয়ামী লীগ আমলে ১৯টি মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছি। আমার স্ত্রীও জেল খেটেছেন। স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। পিটিয়ে আমার পা ভেঙে দেওয়া হয়। জমির ঘের লুট করে বাঁধ কেটে দিয়েছে। এখন আবার হত্যা মামলায় জড়ানো হলো—আমাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।”

তিনি আরও জানান, তার বড় ছেলে ফরিদ উদ্দিন ঢাকার দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আরেক ছেলে হিরন আল তুহিন চরফ্যাসন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তারাও বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছেন।

মতামত দিন