বিচারহীনতা নিয়ে প্রশ্ন, ইনকিলাব মঞ্চের নীরবতায় বিস্ময় শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীর।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে রাবেয়া ইসলাম সম্পা লেখেন, “ওসমান হাদির হত্যার বিচার কি আদৌ হবে?” প্রশ্নের পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, এতদিন পেরিয়ে গেলেও ইনকিলাব মঞ্চ কেন কোনো কর্মসূচির ডাক দিচ্ছে না—তা তাঁকে ভাবিয়ে তুলছে।
পোস্টে তিনি স্পষ্ট করেন, ‘বিচার হবে না’—এই চিন্তাই মাথায় আনা যায় না। তাঁর ভাষায়, যে কোনো মূল্যে বিচার হতেই হবে। বিচার নিশ্চিত না হলে ওসমান হাদির মতো সাহসী ও বিপ্লবী মানুষের জন্ম এ দেশে আর হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ওসমান হাদির স্ত্রী। তিনি জানতে চান, কেন এত সময় লাগছে এবং কেন বিষয়টি এত জটিল হয়ে উঠছে।
রাবেয়া ইসলাম সম্পা তাঁর লেখায় প্রয়াত ওসমান হাদির একটি বক্তব্যের কথাও স্মরণ করান। সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুটি লাইন উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, যুক্তি বা ব্যাখ্যা টানার প্রয়োজন নেই—সবাই জানে কেন সবকিছু সহজ হচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি ওসমান হাদির সেই কথাটিও উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন, “আমাদের লড়াই অনেক দীর্ঘ। মুমিনের জীবন মানেই সংগ্রাম।”
ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে ওসমান হাদির নিজের কিছু কথা তুলে ধরেন তাঁর স্ত্রী। লেখেন, ওসমান হাদি বলতেন—ইনকিলাব মঞ্চ তাঁর প্রথম সন্তান, আর ফিরনাস দ্বিতীয়। সংগঠনের কর্মীরা কোনো বেতন পেতেন না, ঠিকমতো খাবারও জুটত না, তবু নিঃস্বার্থভাবে তাঁর সঙ্গে লেগে থাকতেন। তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন ওসমান হাদি নিজেই।
রাবেয়া ইসলাম সম্পা আরও লেখেন, যারা ওসমান হাদিকে ভালোবাসেন, তাঁর কথা শুনে আবেগাপ্লুত হন—তাঁদের উচিত এখন ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-বোনদের অবস্থার কথাও ভাবা। যাদের কাছে ওসমান হাদি ছিলেন সারাক্ষণের ছায়া, তারা এখন কী অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
পোস্টের শেষ অংশে তিনি ওসমান হাদির একটি উক্তি উল্লেখ করেন—“দাসত্ব যেখানে জমিনের নিশ্চল নিয়তি, লড়াই-ই সেখানে সর্বোত্তম ইবাদত।” এরপর ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মাধ্যমে লেখাটি শেষ করেন তিনি।


মতামত দিন