জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বন্ধের দাবি :ফয়জুল করীমের।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেলে জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা পাইলট স্কুল মাঠে আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সমাবেশে তিনি ইসলামী আন্দোলনের প্রতীক ‘হাতপাখা’কে গরিব-ধনীর নির্বিশেষে সবার প্রতিনিধিত্বকারী প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে বলেন, “নৌকা, শীষ, লাঙল—সব মার্কা তো জনতার। অথচ নির্বাচনে প্রার্থী হয় না কোনো মাঝি, কৃষক বা সাধারণ মানুষ। হয় ধনীরা, যারা নির্বাচনের পর সব ভুলে যায়। কিন্তু হাতপাখা মানুষের ঘরে থাকে, বুকে নিয়েই ঘুমায় তারা। একবার আমাদের সুযোগ দিন, যদি ব্যর্থ হই, আর কখনো সামনে আসব না।”
দেশে চলমান বৈষম্যের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, “৪৭ সালে পাকিস্তান-ভারতের জন্ম হয়েছিল বৈষম্য দূর করার প্রত্যাশায়। পরে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও এখনো মানুষের ভাগ্য বদলায়নি। স্বাধীনতার মূল কথা ছিল সাম্য, কিন্তু বাস্তবে ধনী-গরিবের ব্যবধান শুধু বেড়েছে। এই বৈষম্য দূর করতে ইসলামী অর্থনৈতিক শাসনের বিকল্প নেই। পুঁজিবাদ ধনীর সম্পদ বাড়ায়, গরিবকে আরও গরিব করে। কিন্তু ইসলামী শাসন ধনীর হাতে ভারসাম্য আনে, গরিবের উন্নয়ন নিশ্চিত করে।”
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির প্রসঙ্গে বলেন, “চাঁদা আর দুর্নীতি শুধু হাত বদলায়, সংস্কৃতি বদলায় না। তাই শুধু নেতৃত্ব নয়, প্রয়োজন নীতির পরিবর্তন।”
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গে ফয়জুল করীম বলেন, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনায় সুষ্ঠু ভোটের দিন-তারিখ জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে তাকে বলা হয়েছে, আগে নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের বাস্তবতা যাচাই করা হোক। আগে ব্যবস্থা, তারপর নির্বাচন।”
জামালপুর সদর উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মো. হামিদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাফেজ কারি রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা সভাপতি মুফতি মোস্তফা কামাল, সেক্রেটারি মাওলানা সুলতান মাহমুদ সিরাজী এবং সাবেক ড. ইউনূস আহমদসহ অন্যান্য নেতারা।
মতামত দিন