রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

‘কেউ ঘর থেকে বের হবেন না’: গোপালগঞ্জবাসীকে সতর্ক করলেন আসিফ মাহমুদ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গোপালগঞ্জে ঘোষিত কর্মসূচিকে ঘিরে সহিংসতা, হামলা ও পাল্টা হামলার মধ্যে প্রথমে ১৪৪ ধারা এবং পরে কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। বুধবার (১৬ জুলাই) দিনভর উত্তেজনা ছড়ানোর পর সন্ধ্যায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে গোপালগঞ্জবাসীর উদ্দেশে এক বার্তায় স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সতর্ক করে বলেছেন, “জীবন-মৃত্যুর মতো পরিস্থিতি না হলে কেউ ঘর থেকে বের হবেন না। কারফিউ চলাকালীন সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে সবকিছু মনিটর করছেন স্বরাষ্ট্র, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা।

হামলার বর্ণনা ও প্রতিক্রিয়া
বুধবার দুপুরে সমাবেশস্থলে হঠাৎ করে ২০০-৩০০ জন লাঠিসোঁটা হাতে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা আওয়ামী লীগের সমর্থক। তারা মঞ্চ ভাঙচুর করে, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। একপর্যায়ে পুলিশ ও এনসিপি নেতাকর্মীরা পাল্টা ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও, ফেরার পথে ফের হামলা হয়।

হামলার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। তবে সহিংসতা থামানো যায়নি, বরং বিস্তৃত হয় শহরের আশপাশে।

সরকারের নিন্দা ও প্রতিশ্রুতি
হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়, “এই হামলা মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এনসিপি নেতাকর্মী, পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা বর্বরতা ছাড়া কিছু নয়।”

পোস্টে আরও বলা হয়, “হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। বাংলাদেশে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। সেনা ও পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

পদযাত্রা কর্মসূচি এবং প্রেক্ষাপট
চলতি মাসের শুরুতে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি হাতে নেয় এনসিপি। বিভিন্ন জেলা ঘুরে বুধবার দলটির পদযাত্রার গন্তব্য ছিল গোপালগঞ্জ। তবে সেখানে ক্ষমতাসীনদের একাংশের বাধার মুখে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করা যায়নি।

ঘটনার পর সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদে নেমেছে সাধারণ মানুষ। তারা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

উপসংহার:
গোপালগঞ্জের ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এনসিপি কর্মসূচির ওপর হামলা, পুলিশ ও সাংবাদিকদের আহত হওয়ার ঘটনা এবং কারফিউ জারির মধ্য দিয়ে স্পষ্ট,দেশের রাজনীতিতে উত্তেজনা ফের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি উঠেছে সব মহল থেকে।

মতামত দিন