গোপালগঞ্জে এনসিপি কর্মসূচিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ৩।
গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চারজনকে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজন মারা যান। আহত একজন চিকিৎসাধীন।
নিহতদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে—শহরের উদয়ন রোডের দীপ্ত সাহা (২৫) এবং কোটালীপাড়ার রমজান কাজী (১৮)।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং এনসিপি নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মসূচি শেষে নেতাকর্মীরা ফিরে যাওয়ার সময় দলটির গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সড়ক অবরোধ করে তারা প্রথমে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে, পরে গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে।
সংঘর্ষে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। তবু সংঘর্ষ দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে হামলাকারীরা দলটির নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে একের পর এক আঘাত হানে। একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিরাপত্তার স্বার্থে সরে যেতে দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।
এনসিপি নেতারা বলছেন, এই হামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রশাসন নির্লিপ্ত থেকেছে। তাঁদের দাবি, শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় সরকারপন্থী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে দলটির কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
উল্লেখ্য, ১ জুলাই থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ শীর্ষক কর্মসূচি শুরু করে এনসিপি। এর অংশ হিসেবেই গোপালগঞ্জে ছিল বুধবারের কর্মসূচি। তবে এই জেলা হয়ে উঠল মাসব্যাপী কর্মসূচির সবচেয়ে ভয়াবহ দিন।
মতামত দিন