জাতীয় নির্বাচনের আগে টেলিকম নীতিমালা প্রণয়নের সমালোচনা বিএনপির।
মির্জা ফখরুল বলেন, “এই মুহূর্তে এমন একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতে হঠাৎ করে তড়িঘড়ি করে নীতিমালা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া সমীচীন নয়। সামনে জাতীয় নির্বাচন রয়েছে, এ সময় নীতিনির্ধারণের আগে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ও সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা জরুরি।”
বিএনপির প্রধান আপত্তিগুলো:
১. বাজারে একচেটিয়াতন্ত্রের ঝুঁকি:
বিএনপির ভাষ্য মতে, একাধিক সেবা খাতে মালিকানা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে বড় মোবাইল অপারেটররা সবখাত একাধারে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, ফলে ছোট-মাঝারি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
২. এসএমইদের জন্য নীতির অসুবিধা:
নতুন লাইসেন্স কাঠামোতে এসএমই বা স্থানীয় আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে চাপের মুখে পড়বে। তাদের সক্ষমতা ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে খসড়ায় কোনো দিকনির্দেশনা নেই।
৩. বিদেশি মালিকানার অনির্দিষ্টতা:
বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মালিকানা সীমা স্পষ্ট নয়, যা অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
৪. নীতির অস্পষ্টতা:
-
ক্রস-ওনারশিপ: উল্লম্ব বা সমান্তরাল মালিকানার বিষয়গুলো স্পষ্ট নয়।
-
এন্টারপ্রাইজ সার্ভিস সীমা: কোথায় ফাইবার ভিত্তিক সংযোগ সীমাবদ্ধ থাকবে, তা অনির্ধারিত।
-
নতুন প্রযুক্তি: স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বা ডিজিটাল সেবা নিয়ে দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে।
৫. বড় কোম্পানির প্রতি পক্ষপাত:
একীভূত লাইসেন্স ও স্পেকট্রাম নির্ভরতায় বড় কোম্পানিগুলো বাড়তি সুবিধা পাবে। “ফিক্সড টেলিকম” লাইসেন্সের আওতায় দেশব্যাপী সেবা বাধ্যতামূলক রাখা ছোট কোম্পানির জন্য দুঃসাধ্য।
৬. স্বচ্ছতার অভাব:
নীতিমালায় লাইসেন্স ফি, শর্ত, কার্যকারিতা নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।
বিএনপির দাবি:
-
সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গ্রাহক প্রতিনিধি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার পরই নীতিমালা চূড়ান্ত করতে হবে।
-
এসএমই খাতের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব, কর্মসংস্থানের ঝুঁকি এবং অর্থনীতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আর্থসামাজিক বিশ্লেষণ জরুরি।
-
জাতীয় স্বার্থে অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য নীতি তৈরি হোক।
বিএনপি মনে করে, সমতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রযুক্তি খাতের নীতিমালা হতে হবে সময়োপযোগী,যুক্তিসঙ্গত ও জাতীয় ঐকমত্য ভিত্তিক। নির্বাচনের আগে একতরফাভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রণয়ন করলে তা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
মতামত দিন