রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

শান্তি পদকপ্রাপ্ত ইউনূসের জন্মদিনে বিএনপির শুভেচ্ছা—তারেকের অভিনন্দন।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অর্থনীতিবিদ ও সমাজসংস্কারক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ৮৫তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ফুলের তোড়া ও কেক পাঠিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান তিনি।

তারেক রহমানের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপদেষ্টার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল  ফেরদৌস হাসান সেলিমের কাছে এই উপহার হস্তান্তর করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শুভেচ্ছার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

প্রসঙ্গত, ড. ইউনূস ১৯৪০ সালের ২৮ জুন চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপনার পাশাপাশি গবেষণায় মনোনিবেশ করেন।

১৯৭৬ সালে তিনি প্রথম ক্ষুদ্রঋণের ধারণা নিয়ে ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ মডেলের যাত্রা শুরু করেন। এই মডেল দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়নে বিশ্বজুড়ে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

২০০৬ সালে তিনি এবং গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাঁর মডেল অনুসরণ করে দারিদ্র্যবিরোধী কর্মসূচি চালু হয়। তিনি বিশ্বের ৫০টিরও বেশি সম্মাননা ও ডিগ্রি অর্জন করেছেন, যার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ এবং ‘কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল’ অন্যতম।

ড. ইউনূস কখনো সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় না হলেও সামাজিক ব্যবসা ও ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতির মাধ্যমে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে এসেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘ইউনূস সেন্টার’ ও ‘সোশ্যাল বিজনেস ফাউন্ডেশন’ এখনো বৈশ্বিক পর্যায়ে সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

তাঁর জন্মদিনে বিএনপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো একটি রাজনৈতিক বার্তাও বটে। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউনূস সরকারের নানা পদক্ষেপে রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে চাপে আছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেও অনেক বিশ্লেষক মনে করেন।

তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পাঠানো এই শুভেচ্ছা একদিকে যেমন একজন প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নজির, অন্যদিকে তা রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও বিশ্লেষিত হচ্ছে। ইউনূস বহুবার বলেছেন, “আমি রাজনীতি করি না, আমি মানুষের পাশে দাঁড়াই।” অথচ তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি তৎপরতা ও সরকারসমর্থিত সমালোচনা তাকে দেশের রাজনৈতিক মেরুকরণের কেন্দ্রেও এনে দাঁড় করিয়েছে।


ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি নাম নন, তিনি একটি দর্শন, একটি আন্দোলনের প্রতীক। তারেক রহমানের শুভেচ্ছা তাঁর প্রতি একটি শ্রদ্ধাবোধের প্রকাশ, এবং এক গভীর রাজনৈতিক সময়ে এই শুভেচ্ছা একটি বৃহত্তর বার্তাও দিতে পারে—নৈতিক নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা কোনো রাজনৈতিক বিভাজনের বিষয় নয়।

মতামত দিন