নগর ভবনে দুই গ্রুপে রাজনৈতিক সংঘর্ষ, ছুরি দেখিয়ে সাংবাদিককে হুমকি।
সংঘর্ষের পেছনের কারণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিক দলের একাংশের সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান প্রিন্স তার সমর্থকদের নিয়ে নগর ভবনে প্রবেশের সময় অপর অংশের সভাপতি আরিফ চৌধুরীর অনুসারীরা বাধা দেয়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নগর ভবনের বিভিন্ন পয়েন্টে হাতাহাতি, মারধর ও গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।
গণপিটুনি ও পুলিশের হস্তক্ষেপ
দুপুর দেড়টার দিকে প্রিন্সের অনুসারী সন্দেহে নগর ভবনের একজন কর্মী শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে বেধড়ক মারধর করেন ইশরাকের অনুসারীরা। পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে গেলে হামলাকারীরা প্রথমে বাধা দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ ওই ব্যক্তি এবং আরও একজন আহতকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
আরিফুজ্জামান প্রিন্স বলেন, “ইশরাক নগর ভবনে সেবা চালুর ঘোষণা দিলেও প্রতিদিন বহিরাগতরা এসে আমাদের কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আজ আমরা সংগঠিতভাবে প্রবেশ করতে গেলে হামলা হয়।”
অন্যদিকে, আরিফ চৌধুরী দাবি করেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ছিলাম। কিন্তু বহিরাগতরা এসে আমাদের আটজন কর্মীকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে।”
সাংবাদিকদের ওপর হামলা
সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। নাগরিক টেলিভিশনের সাংবাদিক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শিশির জানান, সংঘর্ষের ভিডিও করতে গেলে ইশরাকপন্থিরা তার মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন, ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলেন এবং তাকে ছুরি দেখিয়ে হুমকি দেন।
এনটিভির রিপোর্টার নাজিবুর রহমানও জানান, তাকেও এবং তার ক্যামেরাম্যানকে ভিডিও না করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক অবস্থান
ঘটনার পর নগর ভবন চত্বরে উত্তেজনা বিরাজ করে। ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে বিকেল পর্যন্ত থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের হয়নি।

মতামত দিন