গলাচিপায় বিএনপি-গণঅধিকার সংঘর্ষে উত্তপ্ত চরবিশ্বাস, আহত ৩০।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের কর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে মুখোমুখি হলে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনার সময় বিএনপির স্থানীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে গলাচিপা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, “পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
বিএনপির অভিযোগ:
স্থানীয় বিএনপি বলছে, ঘটনার শুরু তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মিসভা চলাকালে। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাকের বিশ্বাস জানান, “আমাদের সভা চলার সময় হঠাৎ নুরুল হক নুরের অনুসারীরা হামলা চালায়। তারা অফিসে ভাঙচুর করে, চেয়ার-টেবিল ভাঙে, এমনকি নেত্রীর ছবিও নষ্ট করে।”
তিনি জানান, হামলায় ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় কৃষক দল নেতা মাকসুদ খানকে বরিশাল পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আহতদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও বিএনপির একাধিক স্থানীয় নেতার নাম উঠে এসেছে।
গণঅধিকার পরিষদের পাল্টা দাবি:
এদিকে গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ এনে বলা হয়, সংঘর্ষে উস্কানি দেয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। ইউনিয়ন কমিটির সদস্য সচিব মো. জুয়েল বলেন, “আমাদের বাজার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত মতবিনিময় সভা চলছিল। তখনই বিএনপির অফিস থেকে অশালীন স্লোগান দেওয়া হয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে নুরুল হক নুরের ছোট ভাই আমিনুল ইসলামকে মারধর করে বিএনপির কর্মীরা। এ ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের অন্তত সাতজন সদস্য আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
গণঅধিকার পরিষদের দাবি, বিএনপি তাদের অফিসের চেয়ার নিজেরা ভেঙে পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।
প্রশাসনের অবস্থান:
ওসি আশাদুর রহমান বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।” পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে মামলা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। তবে সংঘর্ষের রেশ এলাকায় এখনও স্পষ্ট, এবং স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মতামত দিন