রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

বাজেটের আকার ছোট হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আমীর খসরু।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দীর্ঘদিন পর সংসদের বাইরে অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে ঘোষণা এলো জাতীয় বাজেট। সোমবার (২ জুন) বিকেল ৩টায় দেশের ৫৪তম এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম।

এটি স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন একটি অর্থবছর, যেখানে বাজেটের আকার কমানো হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় ১১ মাস পর বাজেট মঞ্চে এলেন সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ, আর সে কারণেই বাস্তবতা বিবেচনায় বাজেটের ব্যয়সীমা সংকুচিত করা হয়েছে।

সংসদ না থাকায় অর্থ উপদেষ্টার বক্তৃতা সম্প্রচারিত হয় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং বেতারে। অর্থ উপদেষ্টা জানান, এবারের বাজেট কিছুটা সংস্কারভিত্তিক, যার মূল লক্ষ্য হলো—টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলে উন্নয়নের সুফল সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।

বিএনপির সমালোচনা: "সংখ্যায় হেরফের, গুণে নয়"

বাজেট ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেট আগের সরকারের ধারাবাহিকতা থেকে বের হতে পারেনি। গুণগত দিক দিয়ে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই—শুধু সংখ্যায় কিছুটা হেরফের হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বাস্তবতায় বাজেটের আকার আরও ছোট হওয়া উচিত ছিল। এই বাজেট বাস্তবায়ন সরকারের পক্ষে সহজ হবে না।”

২০০৮ সালের প্রেক্ষাপট মনে করিয়ে দেয় এই মুহূর্ত

প্রসঙ্গত, সংসদের বাইরে সবশেষ বাজেট ঘোষণা হয়েছিল ২০০৮ সালে, সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। তখনকার অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম ৯ জুন উপস্থাপন করেছিলেন ২০০৮-০৯ অর্থবছরের জন্য ৯৯ হাজার ৯৬২ কোটি টাকার বাজেট। ২০২৫ সালে সেই একই রকম এক অন্তর্বর্তী বাস্তবতায় অর্থনীতির হাল ধরলেন মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজেটের আকার সংকুচিত করা সরকারের জন্য বাস্তবতা মেনে নেওয়ার একটি বার্তা। তবে বাস্তবায়ন এবং ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের বাস্তব চিত্র আগামী অর্থবছরেই নির্ধারণ করবে, নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার পথ কতটা টেকসই ও কার্যকর হবে।

মতামত দিন