রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় কোরবানির পশুর হাটে বিএনপি নেতাদের প্রভাব।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকায় পশুর হাট বসানো নিয়ে এবার নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা, রাজনৈতিক প্রতিপত্তি এবং অবৈধ হাটের দাপট দেখা দিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনে মোট ২৩টি হাট বসার কথা থাকলেও এখনো অধিকাংশ হাটের ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি।
এতে ঈদের মাত্র ছয় দিন বাকি থাকলেও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে হাট বসানো নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা, হাট সংখ্যা কমেছে:

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন শুরুতে ২১টি অস্থায়ী হাট বসানোর উদ্যোগ নেয়। তবে জনবহুল এলাকায় হাট বসানো নিয়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার কারণে দক্ষিণ সিটির আফতাবনগর ও মেরাদিয়া এবং উত্তর সিটির বাড্ডা ও খিলক্ষেত এলাকায় হাট বসছে না। এর ফলে দক্ষিণে ৯টি এবং উত্তরে ১২টি অস্থায়ী হাটের অনুমতি মিলেছে। স্থায়ীভাবে গাবতলী ও সারুলিয়ায় হাট থাকায় মোট হাটের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২৩টি।

দক্ষিণে ইজারা কার্যক্রমে স্থবিরতা:

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৯টি হাটের মধ্যে মাত্র ৫টির ইজারা প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হলেও বাকি চারটির ইজারা তিন ধাপের দরপত্র আহ্বানেও সম্পন্ন হয়নি। এর মধ্যে দনিয়া কলেজের পাশের খালি জায়গা, কমলাপুরের খোকা মাঠ, ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল ও শ্যামপুর কদমতলীর হাট রয়েছে। নগর ভবনে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ দেওয়ার দাবিতে চলমান অবরোধের কারণে ইজারা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।

প্রশাসক শাহজাহান মিয়া বলেন, “কয়েকদিন ধরে আমরা কোনো ফাইলও দেখতে পারছি না। ইজারা কার্যাদেশ দিতে পারছি না অবরোধের কারণে।”

উত্তরে অধিকাংশ হাটে বিএনপি নেতাদের দখল:

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ইজারা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের একাধিক নেতা। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, খিলক্ষেত, ভাটারা, কালশীসহ বেশিরভাগ হাটেই সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে উঠে এসেছেন বিএনপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। খিলক্ষেতের মস্তুল হাট পরিচালনা করছেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আকতার হোসাইন।আবার উত্তরার দিয়াবাড়ি হাটে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েও প্রয়োজনীয় কাগজ না দেওয়ায় বিতর্কে জড়িয়েছেন এস এক খোকনের ঘনিষ্ঠ কর্মী আসলাম হোসেন।

এদিকে গাবতলীর স্থায়ী হাটের সর্বোচ্চ দরদাতা আলী হায়দারকে কেউ চিনতে পারছেন না, এমনকি তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে করপোরেশনের ভেতরে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে।

অবৈধ হাটের বিস্তার, প্রশাসনের দিশেহারা অবস্থা:

সিটি করপোরেশনের অনুমতি ছাড়াই অন্তত ছয়টি এলাকায় অবৈধ হাট বসছে বা প্রস্তুতি চলছে। দক্ষিণে কামরাঙ্গীরচর, কলাবাগান ও বাংলামোটরে বিএনপি নেতাদের তত্ত্বাবধানে হাট বসেছে। শ্যামপুর, বনশ্রী ও মেরাদিয়ায়ও চলছে অবৈধ হাটের প্রস্তুতি।

ডিএসসিসির সম্পত্তি কর্মকর্তা হাসিবা খান বলেন, “অবৈধভাবে পশুর হাট বসানোর সুযোগ নেই। ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে অভিযান চালানো হচ্ছে।”

প্রস্তুতি এগিয়ে, কিন্তু অনিশ্চয়তা রয়েই যাচ্ছে:

ইজারা কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ না হলেও সম্ভাব্য ইজারাদাররা এরই মধ্যে গরু কেনার জন্য খামারিদের সঙ্গে যোগাযোগ শেষ করেছেন। অনেকেই হাট বসানোর প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছেন। আশা করা হচ্ছে, রোববার থেকেই হাটে বেচাকেনা শুরু হবে।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, প্রশাসনিক জটিলতা আর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এবার ঢাকাবাসী সুষ্ঠুভাবে কোরবানির পশু কেনার সুযোগ পাবে কি না।কেবল কয়েকদিন সময় বাকি থাকায় সিটি করপোরেশনকে এখন দ্রুত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে, অন্যথায় বিশৃঙ্খলা বাড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

মতামত দিন