রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ মামলায় খালাস পেলেন তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা,আজ বুধবার ২৮ মে ২০২৫:

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় আপিলের মাধ্যমে অবশেষে খালাস পেলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।বুধবার (২৮ মে) হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ এই রায় দেন।

বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চে এ রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, অভিযোগে উল্লিখিত সম্পদের মালিকানা ও উৎস সংক্রান্ত উপস্থাপিত তথ্য থেকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা বাতিল করে তাদের উভয়কে খালাস দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার পেছনের প্রক্রিয়া ও যুক্তি

আপিলের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান, কায়সার কামাল ও জাকির হোসেন ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আব্দুল করিম এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আসিফ হাসান।

আদালতের এই রায় ঘোষণার পর আইনজীবী এস এম শাহজাহান সাংবাদিকদের বলেন, “যেসব সম্পত্তি মামলায় তারেক রহমানের নামে দেখানো হয়েছে, সেগুলো কোনোভাবেই অবৈধ নয়।একটিও বিদেশে নয়,বরং বাংলাদেশেই, এবং অনেকগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে বরাদ্দপ্রাপ্ত সম্পত্তি।”

তিনি আরও বলেন, সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাড়িটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।গুলশানের বাড়িটিও মাত্র ৩৩ টাকায় সরকার থেকে বরাদ্দ পাওয়া।অথচ সেগুলোকে অবৈধ বলে মামলায় তুলে ধরা হয়েছিল। “বিচারের নামে এমন প্রহসন আমি আমার জীবনে দেখিনি,” বলেন শাহজাহান।

আপিল না করেও খালাস তারেক রহমানের

ডা. জুবাইদা রহমানের আপিলের শুনানিকালে আদালত পর্যবেক্ষণ করে বলেন, মামলার সব তথ্য বিবেচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ টেকেনি। আইনজীবীরা আদালতকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতেও একাধিক মামলায় (যেমন: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ইত্যাদি) যেসব আসামি আপিল করতে পারেননি, আদালত পরবর্তীতে আপিলকারীর খালাসের সুবিধা তাঁদের ওপরও প্রযোজ্য করেছে।

এই যুক্তিতেই জুবাইদা রহমানের সঙ্গে তারেক রহমানকেও একই মামলায় খালাস দেন হাইকোর্ট।

পূর্বপটভূমি

২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় তারেক রহমান, জুবাইদা রহমান ও তাঁর মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত তারেক রহমানকে দুটি ধারায় মোট ৯ বছর এবং জুবাইদা রহমানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার অর্থদণ্ডও ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তীতে ডা.জুবাইদা রহমান হাইকোর্টে আপিল করলে ১৩ মে তাঁর আপিল দাখিলে বিলম্ব মাফ করে তা গ্রহণ করেন আদালত। ১৪ মে আপিল শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয় এবং তাঁকে জামিন দেওয়া হয়।

১৭ বছর পর দেশে ফেরা

২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স্বামী তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান জুবাইদা রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০২৫ সালের ৬ মে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে দেশে ফেরেন তিনি। এরপরেই তাঁর আপিল প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং মাত্র ২২ দিনের ব্যবধানে মামলার নিষ্পত্তি ঘটে।

মতামত দিন