‘কালো ব্যাজ পরা সচিবালয় কর্মকর্তারা ক্যু চালাচ্ছেন’, অভিযোগ এনসিপি নেতার।
ঢাকা,আজ সোমবার ২৬ মে ২০২৫:
সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো সচিবালয়ে বিক্ষোভ চলেছে সোমবার (২৬ মে)। আন্দোলনের মধ্যেই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সচিবালয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘শেখ হাসিনার পতনের ধারা অব্যাহত রাখার’ অভিযোগ এনে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন,
"পাঁচ আগস্ট পর্যন্ত কালোব্যাজ ধারণ করে শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিয়ে অফিস করা সচিবালয়ের কর্মকর্তারা তাদের ক্যু অব্যাহত রাখলে, তাদের পরিণতি পতিত শেখ হাসিনার মতো হবে। বাংলাদেশের জনগণ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে। সুতরাং, সাবধান!"
তিনি আরও বলেন,
"জনদুর্ভোগ ও ফ্যাসিবাদ দীর্ঘায়িত করার ক্যান্টনমেন্ট হিসেবে সচিবালয়ের ক্যু সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।"
এদিকে একই দিন সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেন। তারা ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
কালো আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবেঃ
‘বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরাম’ নামে গঠিত নতুন প্ল্যাটফর্ম থেকে জানানো হয়, আন্দোলন চলবে যতদিন না অধ্যাদেশটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়।
ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের একাংশের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর বলেন,
"এই কালো আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মসূচি থেকে সরছি না। কাল (২৭ মে) সকাল ১০টায় বাদামতলায় সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে মিছিলসহকারে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দেশব্যাপী সকল সরকারি দপ্তরে একই রকম কর্মসূচি পালনের অনুরোধ করছি।"
কী আছে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ?
২২ মে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ সংশোধন করে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয় এবং পরদিন তা জারি করা হয়।
অধ্যাদেশে চারটি বিষয়ে সরকারি কর্মচারীদের অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়—
১. অনানুগত্যমূলক আচরণ বা তা উদ্রেককারী কর্মকাণ্ডে জড়ালে,
২. যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে,
৩. অন্যদের কর্তব্যে অবহেলার জন্য প্ররোচিত করলে,
৪. বা কাউকে কাজ থেকে বিরত রাখতে বাধা দিলে—
তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
এই অপরাধে দণ্ডের মধ্যে রয়েছে—
-
নিম্নপদে নামিয়ে দেওয়া,
-
চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অপসারণ।
অভিযোগ গঠনের ৭ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে এবং দোষী প্রমাণ হলে আরও ৭ কর্মদিবসের মধ্যে দণ্ডের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
আপিলের সুযোগ সীমিতঃ
দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মচারী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ থাকবে না, শুধু পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে।
আন্দোলনকারী কর্মচারীদের অভিযোগঃ
তাদের দাবি, সাড়ে চার দশক আগের সামরিক শাসনের আমলে করা বিধানের ধারা অবলম্বন করে পুনরায় এই ‘নিবর্তনমূলক’ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। তারা এটিকে গণতান্ত্রিক পরিবেশে অগ্রহণযোগ্য বলেও মন্তব্য করেছেন।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এই অধ্যাদেশ প্রত্যাহার না হলে দেশব্যাপী আরও বৃহৎ পরিসরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মতামত দিন