রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের ডাকে বিএনপি ও জামায়াতকে আমন্ত্রণ।

চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আলোচনা শুরু করতে উদ্যোগ নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ উদ্দেশ্যে আগামীকাল শনিবার (২৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে পৃথক বৈঠকের আয়োজন করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৩ মে) রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে তাদের জানানো হয়েছে যে, ড. ইউনূস বিএনপির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। তবে বিএনপি এখনো বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা এখনো অফিসিয়ালি কিছু জানাইনি। দেখা করতে যাব কি না, তা শনিবার জানাব।”

তিনি আরও জানান, বিএনপি গত ১৯ মে থেকে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ চাইলেও সফল হয়নি। তার ভাষায়, “সরকারের ভেতরের কিছু আওয়ামী দোসর ও উচ্চাভিলাষী মহল বিএনপিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে। এরাই মূলত আলোচনার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।”

এদিকে একই দিন (শনিবার) প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, “প্রধান উপদেষ্টার সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বৈঠক আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।”

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে দেশের অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে চান বলে জানা গেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্বে এই আলোচনার মাধ্যমে তিনি আগামী নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার রূপরেখা নির্ধারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত নিতে আগ্রহী।

তবে বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে এই বৈঠক সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই আলোচনা প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো  বক্তব্য আসেনি। ফলে আগামী দিনের রাজনীতির গতিপথ অনেকাংশেই নির্ভর করছে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন এই সংলাপ প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও পরিসর নির্ধারণের ওপর।

মতামত দিন