দায়িত্ব ছাড়তে চান ইউনূস, নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাব।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকায় উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠকের পরপরই তিনি এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা,আন্দোলন ও অবরোধ পরিস্থিতি নিয়ে ইউনূস গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যে সংস্কারের উদ্দেশ্য নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়েছিল, তা কার্যকর হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর অনীহা এবং প্রশাসনিক অসহযোগিতায় তার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, বৈঠকে ইউনূস নতুন করে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন,যেখানে তিনি নিজে আর দায়িত্বে থাকতে চান না।তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন এবং তার খসড়াও তৈরি ছিল। সেই ভাষণে তিনি দায়িত্ব পালনে বাধাগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, “প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস পদত্যাগ করতে চেয়েছেন। বিষয়টি বৃহস্পতিবার রাতেই আমাদের জানানো হয়েছে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপের মুখে এখন অন্তর্বর্তী সরকার প্রবল সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দলের দাবির মুখে নির্বাচন আয়োজনের চাপ ও একই সঙ্গে প্রশাসনিক সমর্থনের ঘাটতি ইউনূসকে বিপাকে ফেলেছে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে ইউনূস নির্বাচন আয়োজন নিয়ে নিজের আশঙ্কাও প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব কি না, তা নিয়েই তিনি সন্দিহান। ব্যালট ছিনতাইয়ের শঙ্কা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট গণআন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান। এরপর ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। ঘোষণা দেওয়া হয়, সংবিধান সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির পর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখনও পর্যন্ত সেই নির্বাচন আয়োজনের কোনো ঘোষণা আসেনি।
রাজনৈতিক দলগুলোর একটি বড় অংশ এখন বলছে, সংস্কার নয়, দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করুক অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচনের পর সংস্কার হবে নির্বাচিত সরকারের অধীনে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্নের মুখে।ইউনূস দায়িত্বে থাকবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

মতামত দিন