চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক আন্দোলন, অনির্দিষ্টকালীন বিরতি ঘোষণা।
চট্টগ্রামের প্রধান বন্দর নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছে।
সংগঠনের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকন জানান, “শবে বরাতের কারণে কর্মসূচি সাময়িকভাবে শিথিল করার পরিকল্পনা ছিল। তবে ঢাকায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নেগোসিয়েশন কমিটিকে চাপ দিতে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে গেছে। কনটেইনারভিত্তিক রাজস্ব ভাগাভাগি হলে বন্দর লোকসানসহ সমস্যায় পড়বে।”
বন্দর এলাকায় বর্তমানে পণ্য খালাসের জন্য ৯৮টি জাহাজ অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩২টি জাহাজে খাদ্যপণ্য, চাল, ডাল, তেল, খেজুর এবং চিনি রয়েছে।
মন্ত্রণালয় বদলিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকনসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাকে পানগাঁও, মোংলা ও পায়রা বন্দরে সংযুক্তি ও বদলি করা হয়েছে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া দুই বিএনপিপন্থি শ্রমিকও এর মধ্যে রয়েছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, “রমজানের আগে এই ধর্মঘট পুরো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আশা করছি শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ সমাধানে আসবেন। না হলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বন্দরে বর্তমানে কনটেইনারবাহী জাহাজ আছে ১২টি, জেনারেল কার্গো ২৯টি, খাদ্যপণ্যবোঝাই ২২টি, চিনির কাঁচামাল ৫টি, লবণ ২টি ও তেলবাহী ৯টি জাহাজ। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের সার, সিমেন্ট ও অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজও বন্দরে অপেক্ষমাণ রয়েছে।
মতামত দিন