চট্টগ্রাম কাস্টমসে আটকে আছে হাজার কনটেইনার, নিলামে গতি আনতে আলটিমেটাম।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস বিপাকে পড়ে আছে। আইনি জটিলতা ও বিভিন্ন বাধার কারণে দেশের বন্দরে ১০ হাজারের বেশি পণ্য এখনো নিলামে যাচ্ছে না।
চট্টগ্রাম কাস্টমস এই পরিস্থিতি কাটাতে এক সপ্তাহের মধ্যে পণ্য ছাড় নিতে আলটিমেটাম সহ বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০ ফুটের ২,৮৭৮ এবং ৪০ ফুটের ৭,৪৫৪ কনটেইনারের পাশাপাশি ৬৯,৮৬০ এলসিএল ও ৬,০৬৭ প্যাকেজ বাল্ক পণ্যও এখন বন্দরের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, “পণ্য আটকে থাকায় আমাদের অপারেশন প্রভাবিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে থাকা মালামালে চুরি বা অগ্নি ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে।”
মূলত আমদানিকারকরা ৩০ দিনের মধ্যে পণ্য ছাড় করাতে ব্যর্থ হওয়ায় এসব পণ্য নিলামে বিক্রি হওয়ার কথা ছিল। তবে মামলা ও কেমিক্যাল টেস্টসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে গেছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বলেন, “নিলামে যাওয়ার পর অনেক আমদানিকারক মামলা করে প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। এতে পণ্যের মান নষ্ট হচ্ছে।”
কাস্টমস বিডার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াকুব চৌধুরী জানান, “বিশেষ কিছু খাদ্যপণ্য সিদ্ধান্তহীনতার কারণে নষ্ট হয়েছে। পরে পশু খাদ্য হিসেবে বিড করা হলেও ডেলিভারি হয়নি। দায়-দায়িত্ব কার?”
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, “নিলাম যেন দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়, তাই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ডেলিভারি না নিলে পণ্য ও বিডারের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, নিলামে থাকা অনেক পণ্য ১৫-২০ বছর আগের। দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এসবের মান নষ্ট হয়ে বিক্রির অযোগ্য হয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ২,০১৫ কনটেইনার নিলামের জন্য তোলা হলেও বিক্রি হয়েছে ১,০৭৩। বিক্রি হওয়া কনটেইনারের মধ্যে ৫০৯টি পণ্য ডেলিভারি হয়েছে, বাকি ৫৬৪টি এখনও আটকে আছে।
মতামত দিন