ব্যবসায়-বাণিজ্য
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে তৈরি আইফোনই চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হবে বেশি: টিম কুক।

চীন থেকে উৎপাদন সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া কয়েক বছর আগেই শুরু করেছিল অ্যাপল। এবার বাণিজ্যযুদ্ধের নতুন আবহে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী টিম কুক জানালেন, ২০২৪ সালের জুন প্রান্তিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ আইফোনই যাবে ভারত থেকে।

এখানেই শেষ নয়। কুক জানান, আইপ্যাড, ম্যাক, অ্যাপল ওয়াচ ও এয়ারপডের মতো পণ্যের উৎপাদনও চীন থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে, আর এর মূল কেন্দ্র হবে ভিয়েতনাম।

ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর চীনের সঙ্গে শুরু হওয়া বাণিজ্যযুদ্ধের জেরেই অ্যাপল ভারতে উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সুযোগে ফক্সকনের মাধ্যমে প্রথমবার ভারতে আইফোন তৈরির কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। এখন চীন-যুক্তরাষ্ট্র শুল্কসংক্রান্ত বিরোধের মধ্যেই ভারতের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

ভারত শুধু আইফোনের অন্যতম বড় বাজার নয়, সেখানে উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে কম। তাই স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে অ্যাপল পণ্যের দাম কমিয়ে বাজারে প্রতিযোগিতায় সুবিধা নিতে চাইছে। টিম কুক জানিয়েছেন, জুন প্রান্তিকে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ এবং অন্য পণ্য ও পরিষেবার ওপর ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হবে, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত।

এই শুল্কের কারণে অ্যাপলের আমদানি খরচ ৯০ কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। তাই ৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক স্থগিত থাকায় সেদিকেই জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক কার্যকরের আগেই, মার্চের শেষ সপ্তাহে মাত্র তিন দিনের মধ্যে পাঁচটি বিমানে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ও অন্যান্য পণ্য পাঠিয়েছে অ্যাপল। একইভাবে চীন থেকেও জরুরি ভিত্তিতে পণ্য সরবরাহ করা হয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি চীনে উৎপাদিত একটি আইফোনের ওপর ১৪৫ শতাংশ শুল্ক বসে, তাহলে তার দাম পৌঁছাতে পারে প্রায় আড়াই হাজার ডলারে। সে প্রেক্ষিতে অ্যাপলের জন্য ভারতে উৎপাদন এখন বাস্তবসম্মত এবং লাভজনক বিকল্প। 

মতামত দিন