আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু হবে ১ জানিয়ারি,শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
আগামী ১ জানুয়ারি থেকে পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে শুরু হচ্ছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ-২০২৬)। মেলার শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, এবারের মেলায় ৩২৪টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হয়েছে। দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তা এবং সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো এই স্টলগুলোতে তাদের পণ্য প্রদর্শন করবে।
মেলায় প্রদর্শিত হবে বস্ত্র, কার্পেট, কসমেটিক্স, ইলেকট্রনিকস, ফার্নিচার, হোম ডেকর, খেলনা, খাদ্যসহ বিভিন্ন সেক্টরের পণ্য। বিশেষভাবে মহিলা, প্রতিবন্ধী, কুটির ও হস্তশিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষিত স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
অনলাইন ও অন-স্পট টিকিট ব্যবস্থার মাধ্যমে দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়া ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি কনসেশনাল রেটে ‘পাঠাও’ পরিবহনও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাণিজ্য মেলায় দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক স্মরণে বিশেষ কর্ণার তৈরি করা হয়েছে। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের স্মরণে বাংলাদেশ স্কয়ার স্থাপন করা হয়েছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য থাকবে দুটি শিশু পার্ক এবং সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য আলাদা সিটিং কর্নার।
মেলার লে-আউটে দক্ষিণ-পূর্বে বাংলাদেশ স্কয়ার, দক্ষিণ-পশ্চিমে কালচারাল সেন্টার ও রিক্রিয়েশনাল কর্নার, উত্তর-পূর্বে শিশু পার্ক এবং উত্তর-পশ্চিমে মসজিদ/নামাজ ঘর নির্মিত হয়েছে। ব্যাংকিং ও জরুরি সেবার জন্য পর্যাপ্ত এটিএম বুথ, রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র, মা-শিশু কেন্দ্র, আরামদায়ক চেয়ার-বেঞ্চ রাখা হয়েছে।
পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার এবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যাগ হ্রাসকৃত মূল্যে সরবরাহ করা হবে। এছাড়া মাসব্যাপী সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি উদযাপন করবে।
মেলার সময়সীমা প্রতিদিন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট থেকে রাত ৯টা ৫০ মিনিট (সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে রাত ১০টা পর্যন্ত)। প্রাপ্তবয়স্কদের টিকিট ৫০ টাকা, ১২ বছরের নিচের শিশুদের ২৫ টাকা। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আহতরা তাদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন।
ডিআইটিএফ আয়োজনের মূল লক্ষ্য দেশের পণ্য সম্প্রসারণ, বিপণন ও উৎপাদন বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

মতামত দিন