সরকারি উন্নয়নে ব্যয় ও ঋণের হার কমে যাওয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগে ও ধীরগতি।
দেশের অর্থনীতিতে নতুন ধরনের ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় কমায় ও ব্যাংক ঋণের হার পরিবর্তনের কারণে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও কমছে।
জুলাই মাসের পর একের পর এক প্রকল্প স্থগিত বা বাতিল করেছে সরকার। এর মধ্যে ছিল রাজধানী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিআরটি প্রকল্পও। চলতি বাজেটে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে, তবে সরকার বলছে, পূর্বে চলমান প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে নতুন কোনো বড় প্রকল্প নেয়া হয়নি।
অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি–জুনে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ ছিল ৮৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। কিন্তু জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণগ্রহণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এই কমে যাওয়া ঋণগ্রহণের হার বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অবকাঠামোগত কাজের কমে যাওয়ায় বেসরকারি উদ্যোগগুলোও সতর্ক। অনেক কারখানা উৎপাদন কমাচ্ছে, কর্মী ছাঁটাই হচ্ছে এবং বেতন কমানো হচ্ছে। মানুষের হাতে নগদ অর্থ কমায় ক্রয়ক্ষমতাও কমছে, যা ব্যবসা ও বাজারে প্রভাব ফেলছে।
এদিকে, কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ায় সরকার তহবিল ঘাটতি পূরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে। চলতি বছর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সব খাত মিলিয়ে তহবিল সংগ্রহের পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় বেশি।
মতামত দিন