ভারতীয় পেঁয়াজ ঢুকতেই হিলি বাজারে বড় পতন, কেজিতে দাম কমল ৪০ টাকা।
হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আনার অনুমতি মিলতেই বাজারে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন এসেছে। গত দুই দিনের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমে গেছে, আর ভারতীয় পেঁয়াজ মিলছে প্রতি কেজি ৮০ টাকায়।
দাম হঠাৎ নামল কেন?
ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের বাজার অস্থির ছিল। হিলির পাইকারি বিক্রেতা বিপ্লব জানান,
“দুই সপ্তাহ আগে যে পেঁয়াজ ৭০ টাকায় বিক্রি হতো, সেটাই কয়েক দফায় বাড়তে বাড়তে ১২০–১৩০ টাকা পর্যন্ত গেছে। কিন্তু আমদানির খবর ছড়াতেই দামে পতন শুরু হয়।”
একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন অন্য ব্যবসায়ী মনি, আব্দুস ছালামসহ আরও কয়েকজন। তারা বলেন,
“তিন মাসের বেশি সময় ভারতীয় পেঁয়াজ না আসায় আমরা পুরোপুরি দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করেছি। পাবনা ও অন্যান্য অঞ্চলের পাইকাররা যে দাম নিতেন, সেটির ওপর সামান্য লাভ রেখে বিক্রি করতাম।”
তাদের ভাষায়, গত সপ্তাহ থেকেই দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। দুদিন আগেও ১২০ টাকায় কিনে ১২৫ টাকায় বিক্রি করেছেন। কিন্তু আজ সেই একই পেঁয়াজ ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ আরতদার পর্যায়ে সরাসরি দাম কমে গেছে। কম দামে কিনতে পারায় কম দামে বিক্রিও বাড়ছে—এটাই তাদের যুক্তি।
আমদানির জন্য আইপি পেতে ভিড়
হিলির আমদানিকারকরা জানান, সরকার সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমতি দিতেই অনলাইনে ইন্টারনেট প্রোটোকল (আইপি) ইস্যু শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০ জন আমদানিকারক ৩০ মেট্রিক টন করে আইপি পাবেন। কিন্তু আবেদন শুরু হতেই সার্ভার বন্ধ দেখাচ্ছিল, ফলে অনেকে আবেদনই করতে পারেননি।
হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী এ বিষয়ে বলেন,
“আজ যেসব ৫০ জন আবেদন করবেন, তারা ৩০ মেট্রিক টন করে আইপি পাবেন। কোটা শেষ হলেই সার্ভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। যারা আজ পারেননি, তারা পরদিন আবার চেষ্টা করতে পারবেন।”
সাড়ে তিন মাস পর আমদানির পুনরায় সূচনা
হিলি দিয়ে সর্বশেষ পেঁয়াজ এসেছে ৩০ আগস্ট। কৃষকদের স্বার্থে এরপর আমদানি বন্ধ রাখা হয়। পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় সরকার ফের আমদানি খুলে দেয়। রোববার আইপি ইস্যুর প্রথম দিনে চার আমদানিকারক মোট ১২০ টন পেঁয়াজ আনার অনুমতি পান। এর মধ্যে একজন ৩০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ ইতোমধ্যে আমদানিও করেছেন।

মতামত দিন