ভারতে রফতানি বন্ধ, নাটোরে কমেছে বিষমুক্ত শুঁটকির উৎপাদন ও দাম।
ভারতে রফতানির সম্ভাবনা বন্ধ থাকায় নাটোরে বিষমুক্ত শুঁটকির উৎপাদন কমে গেছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে এর দামও নিম্নমুখী।
নাটোরের চলনবিল এলাকায় সিংড়ার নেঙ্গুন শুঁটকি পল্লীতে সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই নারী শ্রমিকরা মাছ কাটাছেঁড়া, ধোঁয়া দেওয়া এবং শুকানোর কাজ করছেন। এখানে কোনো ধরনের বিষ ব্যবহার করা হয় না। নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের পাশে শুঁটকি পল্লী হওয়ায় যাত্রীরা মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনে এসে পছন্দের মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। চলনবিলের নানা প্রজাতির মাছের শুঁটকি এখানে ১৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বগুড়া শহরের শুঁটকি চাষি বলেন, “নাটোরের শুঁটকিতে এখন বিষ ব্যবহার করা হয় না, দামও সহনীয়। প্রতি সপ্তাহে আমি মোটরসাইকেল নিয়ে শুঁটকি কিনতে আসি।”
উৎপাদক বাবু জানান, “প্রতি বছর নাটোরের শুঁটকি ভারতে রফতানি হতো। চলতি বছরে এক কেজি মাছও রফতানি হয়নি, তাই উৎপাদন কমানো হয়েছে। আগে কেজিতে ২৫০–৩০০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন ১৫০–১৬০ টাকায়। স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে উৎপাদন টিকিয়ে রাখা হয়েছে।”
নাটোর জেলা মৎস্য অফিসার মো. ওমর আলী বলেন, “চলনবিলের মাছের উৎপাদন কম হওয়ায় শুঁটকি উৎপাদনও কমতে পারে। সরকার যদি রফতানির সুযোগ পুনঃস্থাপন করে, উৎপাদকরা ভালো দাম পাবেন।”
গত বছর চলনবিলের সিংড়া উপজেলার অংশ থেকে ৩২০ মেট্রিক টন শুঁটকি মাছ উৎপাদন করা হয়েছিল।

মতামত দিন