বড়দিনের মরশুমে রফতানিতে ধাক্কা, গার্মেন্টস খাতের উদ্বেগ।
বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বড়দিনকে কেন্দ্র করে যে আশা করা হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সাম্প্রতিক তথ্যও এ অবস্থা প্রতিফলিত করছে।
প্রতিবছর বড়দিনের সময় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই মে-জুনে বাংলাদেশে নতুন ডিজাইনের পোশাকের অর্ডার আসে, যা সাধারণত সেপ্টেম্বরে বা অক্টোবরের মধ্যে রফতানি করা হয়। তবে চলতি বছরে, ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ছাড়া প্রথম চার মাসে রফতানি আয়ে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “বছরের এই সময়ে যে বড় অর্ডার আসত, এবার তা অনেক কম। মার্কিন শুল্কনীতি এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ।”
রফতানিকারীরা আরও জানিয়েছেন, চীন ও ভারত যখন ইউরোপের বাজার দখল করতে মরিয়া, সেই সময় বাংলাদেশে কয়েকটি কারখানা বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে নেতিবাচক সিগন্যাল গিয়েছে। নির্বাচনের প্রভাবে নতুন অর্ডারও সীমিত হয়েছে।
বিজিএমইএর পরিচালক রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, “ক্রিসমাসের সময় অর্ডার কমেছে। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে অর্ডার পুনরায় বাড়বে।”
বিটিএমএর সহ-সভাপতি সালেউদ জামান খান আশা প্রকাশ করেছেন, “ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ক্রেতারা বড় অর্ডার দেবেন। এতে গার্মেন্টস খাত পুনরায় চাঙা হবে।”
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে রফতানির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোকে সমন্বিত এবং কৌশলভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। ড. মাহফুজ কবির উল্লেখ করেছেন, “বিজিএমইএ ও বিকেএমইএকে নিজ উদ্যোগে পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনী ইশতাহারে রফতানি খাতের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দিতে হবে।”
খাত বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, বন্দরের মাশুল কমানো এবং শুল্ক জটিলতা দূর না করলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা আরও কঠিন হবে।

মতামত দিন