ব্যবসায়-বাণিজ্য
ছবি: সংগৃহীত

প্রথম প্রান্তিকে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বৃদ্ধিতে আশা দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

দেশের অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বড় শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানিতে নতুন করে গতি দেখা গেছে। এই সময়ে আগের বছরের তুলনায় আমদানির পরিমাণ প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, নীতি সহায়তা বাড়ানো ও আমদানি প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে যে স্থবিরতা ছিল, তা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে।

গত কয়েক বছর ধরে বৈশ্বিক বাজারের চাপ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, মহামারি-পরবর্তী সংকট এবং ডলার বাজারে টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে বাণিজ্য খাতে বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে জুলাইয়ের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের পর ব্যাংক খাতে যে অস্থিরতা দেখা দেয়, তার প্রভাব সরাসরি পড়ে আমদানিতে। একদিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষার অবস্থানে, অন্যদিকে দেশের ব্যবসায়ীরাও নতুন সরকারের নীতির দিকনির্দেশনার দিকে তাকিয়ে আছে।

এই প্রেক্ষাপটে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতির জন্য ব্যাংকগুলোতে ৪৭ কোটি ডলারের বেশি এলসি খোলা হয়েছে—যা গত এক বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, আমদানি বৃদ্ধির অর্থ হলো উৎপাদন খাতে আগ্রহ ফিরছে। উৎপাদন বাড়লে রফতানিও বাড়বে, পাশাপাশি দেশের বাজারে বিদেশি পণ্যের বিকল্পও তৈরি হবে।

তবে ব্যাংক খাতের দায়িত্বশীলরা সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবু নাসের বখতিয়ার বলেন, শিল্পায়নের জন্য যন্ত্রপাতি আনা অবশ্যই ইতিবাচক সংকেত। কিন্তু কোন যন্ত্রপাতি আসছে এবং তা শিল্পে ব্যবহার হচ্ছে কি না—এগুলো নজরদারিতে রাখতে হবে, যাতে মূলধনী পণ্যের নামে বিলাসপণ্য ঢুকে না পড়ে।

এদিকে লালদিয়া ও পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে সরকারের নতুন চুক্তির ফলে বাণিজ্য পরিবহনব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সঠিকভাবে এ টার্মিনালগুলো ব্যবহার করা গেলে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম আরও সহজ হবে।

মতামত দিন