ব্যবসায়-বাণিজ্য
ছবি: সংগৃহীত

রফতানি থমকে,ঝুট সংকটে বন্ধ দুই শতাধিক কারখানা ,সৈয়দপুরে শীতপোশাকের আগাম প্রস্তুতি।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

রফতানি কার্যক্রম বন্ধ আর আমদানি কমে যাওয়ায় নীলফামারীর সৈয়দপুরের অনেক ঝুট গার্মেন্টস কারখানায় তালা ঝুলছে। তবে শীতের আগমনে আবারও ব্যস্ত হয়ে উঠছেন এখানকার কারিগর ও উদ্যোক্তারা।

লাভের আশায় তারা ইতোমধ্যেই আগাম শীতবস্ত্র তৈরি ও মজুতের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈয়দপুরের দুই শতাধিক ঝুটভিত্তিক গার্মেন্টস কারখানায় দিনরাত চলছে কাটিং, সেলাই ও প্যাকেজিংয়ের কাজ। স্থানীয় মার্কেটগুলোর দোকানেও জ্যাকেট, ট্রাউজার, শিশুদের পোশাকসহ নানা ধরনের শীতপোশাক আগাম বিক্রির জন্য সাজানো হচ্ছে।

দেশের বড় শিল্পকারখানা থেকে সংগৃহীত ঝুট কাপড় দিয়ে পোশাক তৈরি করায় এখানে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম। একসময় এসব পণ্য নেপাল ও ভুটানে রফতানি হতো। কিন্তু স্থলপথে রফতানি বন্ধ এবং কাঁচামালের সংকটে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে পড়েছে। তবু শীত মৌসুমকে সামনে রেখে অনেক মালিক আবার নতুন করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কারখানা মালিকরা জানান, শীতকাল এলেই দেশজুড়ে এখানকার পোশাকের ব্যাপক চাহিদা থাকে। ফলে আগেই পণ্য তৈরি করে মজুত রাখেন তারা। একজন মালিক বলেন, “নেপাল-ভুটানে আর পাঠাতে পারি না, কিন্তু দেশের বাজারেই এখন ভালো চাহিদা আছে। দামও তুলনামূলক কম, মানও ভালো।”

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সৈয়দপুরের শীতপোশাকের মান ভালো এবং দাম কম হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এখানে পণ্য কিনতে আসছেন। এতে কর্মসংস্থানও বেড়েছে কারিগরদের মধ্যে।

নীলফামারী সৈয়দপুর রফতানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্টস মালিক সমিতির সভাপতি মো. আকতার হোসেন খান বলেন, “শীতের পণ্য আগেভাগেই তৈরি করতে হয়। আমরা এখন জ্যাকেট উৎপাদনে ব্যস্ত। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন শহরে—ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল পর্যন্ত—পণ্য পাঠানো হচ্ছে।”

রফতানি স্থবিরতা ও ঝুট কাপড়ের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে ইতোমধ্যে সৈয়দপুরে প্রায় দুই শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা কার্যক্রম বন্ধ করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মতামত দিন