চুয়াডাঙ্গার দেহাটিতে খেজুরের রস সংরক্ষণের মাটির ভাঁড় তৈরিতে ব্যস্ত কুমার সম্প্রদায়।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার দেহাটি গ্রামে শীতকালে খেজুরের রস ও গুড় সংরক্ষণের জন্য মাটির ভাঁড় তৈরি শুরু হয়েছে। প্রতি বছর নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই মৌসুমে মৃৎশিল্পীরা বিশেষভাবে ব্যস্ত থাকেন।
গ্রামের কারিগররা এঁটেল মাটির সঙ্গে পানি মিশিয়ে ভাঁড় গড়ে তোলেন, তারপর রোদে শুকিয়ে শক্ত করার পর পোড়ানো হয়। এতে খেজুরের রস বা গুড় দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন নকশার সংযোজন ভাঁড়গুলোকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।
মৃৎশিল্পী নিতাই পাল জানান, প্রতিদিন ৫০–৭০টি ভাঁড় তৈরি করা যায়। রস রাখার ভাঁড় বিক্রি হয় ৩০ টাকা, আর গুড়ের জন্য ৪০ টাকা। পুরো মৌসুমে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকার ভাঁড় বিক্রি সম্ভব, যেখানে খরচ হয় ৫০–৬০ হাজার টাকা।
শ্রমিকরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ভাঁড় তৈরির কাজে ভোর ছয়টা থেকে দুপুর একটায় কাজ করা এক জন দৈনিক ৫০০–৬০০ টাকা আয় করেন।ভাঁড় পোড়ানোর কাজ করে এক জন সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত, যেখানে দৈনিক আয় ৭০০–৮০০ টাকা। এই আয়ের মাধ্যমে তারা পরিবার চালান।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাটির জিনিসের ব্যবহার কমে যাওয়ায় কুমার সম্প্রদায়ের আগ্রহও কমে গেছে। এক কুমার জানান, এক সময় দুই শতাধিক পরিবারের মধ্যে মৃৎশিল্প চলত, এখন মাত্র ২১টি পরিবার পেশাটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।আরেক কুমার বলেন, বর্তমানে প্লাস্টিক ও রাবারের জিনিসে মানুষ বেশি আগ্রহী। তাই কুমাররা এখন ফুলের টব, বাচ্চাদের খেলনা ও শৌখিন সাজসজ্জার সামগ্রী বানাচ্ছেন।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমীন বলেন, “পুরনো ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প হারিয়ে যেতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা থাকলে মৃৎশিল্পীদের পাশে দাঁড়ানো হবে।”

মতামত দিন