পূর্ব ঘোষণা বা প্রস্তুতি ছাড়াই সন্ধ্যা ৬টার পর বেনাপোল সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি বন্ধে ট্রাক জট।
দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোলে শনিবার সন্ধ্যা ৬টার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আকস্মিকভাবে সব আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এই অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তে বন্দর ও সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়েছে।
বেনাপোল-বাংলাদেশ এবং পেট্রাপোল-ভারত সীমান্তে ফল, সবজি, মাছ, কসমেটিকস এবং রাসায়নিক কাঁচামালসহ প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি ট্রাক আটকে আছে। গড় ট্রাক প্রবেশের সংখ্যা কমে প্রায় ১৮০-২০০টিতে নেমেছে, যেখানে আগের দিন গড়ে ৪০০-৪৫০টি ট্রাক প্রবেশ করত। এতে প্রতিদিন প্রায় ১০০-১৫০ কোটি টাকার পণ্য খালাসে আটকে থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বেনাপোলের সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান হবি বলেন, “পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সন্ধ্যার পর কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা হতবাক। কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসায়ীরা বিকল্প সীমান্ত রুট খুঁজতে বাধ্য হবেন, যা সরকারের রাজস্ব কমিয়ে দেবে।”
ভারতের পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী মন্তব্য করেন, এই একতরফা সিদ্ধান্তে ভারতীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং দুই দেশের বাণিজ্যে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।
বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামীম হোসেন জানান, “কাস্টমস অনুমোদন ছাড়া কোনো পণ্য খালাস করা সম্ভব নয়। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণে রাজস্ব ও বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।” অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের কারণে সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে বলে কাস্টমসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে দুই দেশের সিদ্ধান্তে বেনাপোল-পেট্রাপোল ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট ২৪ ঘণ্টা চালুর ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, তবে এখনও তা কার্যকর হয়নি। আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মতিউর রহমান দাবি করেছেন, প্রতিদিন অন্তত ৪০০-৫০০ ট্রাকের প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
মতামত দিন