কার্গো ভিলেজ অগ্নিকাণ্ড: ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল খালাসে জটিলতা, উৎপাদন-সাপ্লাই চেইনে শঙ্কা।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ১৮ অক্টোবর ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের পরও পণ্য খালাস প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এর ফলে দেশের ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল দ্রুত হাতে না পাওয়ার কারণে প্রস্তুতি ও সরবরাহে জটিলতা তৈরি হচ্ছে, যা আগামী মাসগুলোতে উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বেবিচক চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের তিন দিন পর ফ্লাইট ওঠানামা স্বাভাবিক হলেও বর্তমানে কেবল ৯ নম্বর গেট ব্যবহার করে পণ্য খালাস করা হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে ৪টি গেট ব্যবহার হলেও এখন কেবল একটি গেট ব্যবহার হওয়ায় কনটেইনারবাহী ট্রাক ও সিএন্ডএফ এজেন্টদের দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হচ্ছে।৯ নম্বর গেটের দূরত্ব প্রায় দেড় কিলোমিটার হওয়ায় দ্রুত কাগজপত্র জমা দিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ওষুধ ও ভ্যাকসিনের মতো স্পর্শকাতর পণ্যের কাঁচামালের ক্ষেত্রে এই ধীরগতির প্রক্রিয়া বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। দেশের প্রয়োজনীয় ওষুধের ৯৫ শতাংশ উৎপাদন হয় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে,যার ৯০ শতাংশ কাঁচামাল আসে বিদেশ থেকে। ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, কার্গো ভিলেজ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল পুড়ে গেছে।
ওয়ান ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “প্রায় ৫৩টি ম্যাটেরিয়াল লাগতে পারে একটি পণ্য তৈরি করতে। সময় মতো কাঁচামাল না পেলে আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে উৎপাদন ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হবে এবং এর প্রভাব সাপ্লাই চেইনেও পড়বে।”
অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক বলেন, “ফার্মা ইন্ডাস্ট্রিকে রক্ষা করার জন্য কার্গো ভিলেজে থাকা কাঁচামাল দ্রুত খালাসে নজর দিতে হবে, যাতে উৎপাদন, সরবরাহ ও রফতানিতে জটিলতা সৃষ্টি না হয়।”
বাংলাদেশ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে ওষুধ রফতানি করছে।
মতামত দিন