বাংলাদেশের ব্যাংক খাতকে ঝুঁকিমুক্ত করতে বিশ্বব্যাংকের ১০ সুপারিশ।
দেশের ব্যাংক খাত একাধিক গভীর সংকটে। খেলাপি ঋণের চাপ, মূলধনের ঘাটতি, সুশাসনের অভাব—সব মিলিয়ে ঝুঁকির রূপ নিচ্ছে গোটা খাতটি।
গত বুধবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই সুপারিশগুলো তুলে ধরে সংস্থাটি। সুপারিশগুলোর মধ্যে আছে—ব্যাংক খাতের নীতিগত কাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া, আমানতকারীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্ত করা, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন, খেলাপি ঋণ ঠেকাতে শক্ত কাঠামো তৈরি, সমন্বিত দেউলিয়া আইন প্রণয়ন, আইন-নীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, জরুরি তারল্য ব্যবস্থার রূপরেখা প্রণয়ন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সর্বোপরি—কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
বিশ্বব্যাংক বলছে, এসব সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে ব্যাংক খাতের দুর্বলতা আরও তীব্র হতে পারে। সংস্থার মতে, খেলাপি ঋণ আর রাজনৈতিক প্রভাবে ঋণ অনুমোদনের প্রবণতা ব্যাংকিং ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ভেঙে দিয়েছে। ব্যাংক পরিচালকদের মধ্যে পারিবারিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক, কর্তৃত্বের অপব্যবহার এবং অনিয়মিত অনুমোদনের সংস্কৃতি দীর্ঘমেয়াদে খাতটিকে দুর্বল করে দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে বেসরকারি ব্যাংক অনুমোদনের ঘটনাগুলো ব্যাংক পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি হ্রাস করেছে। উদাহরণ হিসেবে ২০২৩ সালে আটটি ব্যাংকের পরিচালকদের মধ্যে পারস্পরিক ঋণের পরিমাণ ৩৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে—যা স্পষ্টভাবে একে অপরের সুবিধা আদায়ে গঠিত জোটের চিত্রই তুলে ধরে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশে ব্যাংক খাত পুরো আর্থিক খাতের মেরুদণ্ডের মতো। ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতের মোট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ২০০ কোটি ডলার—যার প্রায় ৭০ শতাংশই বেসরকারি ব্যাংকের দখলে। ফলে এই খাতের স্থিতিশীলতা বিনিয়োগ, শিল্প, এমনকি সাধারণ অর্থনীতির ওপরও প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলে।
প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং খাতের সংকটগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, এগুলোর আর্থিক ও সামাজিক মূল্য অনেক বড়। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না। ফলে এখনই প্রয়োজন, শক্ত হাতে সংস্কার বাস্তবায়নের।

মতামত দিন