কাতার থেকে উত্তরণের আগে রফতানি সুরক্ষায় বাংলাদেশে নতুন বাণিজ্য উদ্যোগ।
২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ আর অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা পাবে না। রফতানি আয়ের পথ ধরে রাখতে সরকার এখন দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এফটিএ বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে স্থিতিশীলতা আনবে, তবে স্বল্পমেয়াদে জিএসপি প্লাস সুবিধা ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
ইইউ বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি গন্তব্য। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রফতানির প্রায় ৪৪ শতাংশ গেছে ইইউভুক্ত ২৭ দেশে, যা প্রায় ২১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশ ইইউ বাজারে অস্ত্র ছাড়া সব পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। তবে ২০২৬ সালের নভেম্বরে উত্তরণের পর তিন বছরের জন্য এই সুবিধা থাকবে; তার পরের সময় নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ওয়ান ফার্মা ও ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “গ্রেস পিরিয়ডে আমাদের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। কারণ এগুলোই নির্ধারণ করে শুল্ক হার ও অন্যান্য সুবিধা।”
অন্যদিকে সরকার এই উত্তরণকে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে দেখছে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, “আমরা এমন অবস্থানে পৌঁছেছি যেখানে উন্নয়নশীল দেশ থেকে উত্তরণের মানদণ্ড পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। এখন ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
ইইউ’র সঙ্গে এফটিএর সম্ভাব্যতা ইতোমধ্যে যাচাই করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আগামী মাসে ইইউ প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরে আলোচনা আরও অগ্রসর হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন,দীর্ঘমেয়াদে এফটিএ সুবিধা নিশ্চিত করবে, তবে স্বল্পমেয়াদে জিএসপি প্লাসে বাড়তি সুবিধা আদায় করাও অপরিহার্য।
এছাড়া জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) করার বিষয়েও বাংলাদেশ বেশ অগ্রগতি করেছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের রফতানি বাজারে বৈচিত্র্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

মতামত দিন