বাংলাদেশে জার্মান জুতার ব্র্যান্ড বুগাতির যাত্রা শুরু করল ডিবিএল গ্রুপ।
পুমা, নাইকি, অ্যাডিডাস আর লিভাইসের মতো বড় বড় ব্র্যান্ডের পর এবার দেশের বাজারে এলো জার্মান জুতার ব্র্যান্ড বুগাতি। এই ফ্র্যাঞ্চাইজি এনেছে ডিবিএল গ্রুপের রিটেইল শাখা ডিবিএল লাইফস্টাইল।
এই স্টোরে নারী-পুরুষ সবার জন্যই থাকবে ক্যাজুয়াল আর ফরমাল জুতা, সঙ্গে থাকবে অন্যান্য ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিবিএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ, এমডি এম এ জব্বার, ভাইস চেয়ারম্যান এম এ রহিম আর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ কাদের।
ডিবিএল লাইফস্টাইল জানিয়েছে, ইউরোপের প্রিমিয়াম এই জুতার ব্র্যান্ডটি গুণগত মান, নকশা আর কারুশিল্পের জন্য খুবই পরিচিত। তাদের চামড়ার জুতাগুলো হাতে তৈরি, যেটা ব্র্যান্ডটার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য।
স্টোরটিতে নারীদের জন্য থাকবে আরেকটা ইউরোপীয় ব্র্যান্ড টিটি বাগেত—যার শুরু হয়েছিল ইতালির মিলানে। এই ব্র্যান্ডের কালেকশনে আছে নি-হাই বুট, হিল, স্নিকার্স আর বিলাসবহুল স্লিপ-অনস।
ডিবিএল লাইফস্টাইলের হেড অব বিজনেস রিজওয়ান হাবিব বললেন, বুগাতির জুতার দাম শুরু ৫ হাজার টাকা থেকে, আর সেটা ২০ হাজার পর্যন্ত যেতে পারে। আর বেল্ট, মানিব্যাগ, মোজা ইত্যাদি ফ্যাশন পণ্যের দাম ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে।
বুগাতির শুরুটা ১৯৪৭ সালে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, জার্মান দম্পতি ফ্রেডরিখ উইলহেম ব্রিঙ্কম্যান আর মার্গোটের হাত ধরে। শুরুতে তারা পোশাক নিয়ে কাজ করলেও ১৯৭৮ সালে ‘বুগাতি’ নামে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়, আর ১৯৯১ সালে তারা প্রথম জুতার কালেকশন বাজারে আনে।
ব্র্যান্ডের ওয়েবসাইট বলছে, প্রতিষ্ঠাতা জার্মান হলেও বুগাতির হেড অফিস এখন সুইজারল্যান্ডে। তাদের প্রিমিয়াম কোয়ালিটির জুতা তৈরি হয় ইতালিতে। আর কিছু জুতা তৈরি হয় ভারত আর চীনে, তবে চামড়া আর সোল ইউরোপেই তৈরি হয়।
এর আগে ২০১৯ সালে ডিবিএল গ্রুপই প্রথম পুমার স্টোর এনেছিল বনানীতে। এরপর নাইকি, অ্যাডিডাস আর লিভাইসের বিক্রয়কেন্দ্রও চালু করে তারা। এখন বাংলাদেশে ডিবিএল পরিচালিত পুমার চারটি, নাইকির দুটি, অ্যাডিডাসের একটি আর লিভাইসের দুটি আউটলেট রয়েছে।
ডিবিএলের ভাইস চেয়ারম্যান এম এ রহিম বললেন, “বিশ্বমানের ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশে থাকলে আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের দেশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এটাই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। অনেকে বিদেশে গিয়ে এই জিনিসগুলো কেনার সুযোগ পান না, তাই দেশে থেকেই যেন তারা এগুলোর অভিজ্ঞতা নিতে পারেন—সেই চিন্তা থেকেই আমরা এই ব্র্যান্ডগুলো আনছি।” তিনি আরও জানালেন, নতুন আরও এক-দুটি ব্র্যান্ডের সঙ্গে তারা আলোচনা করছে।

মতামত দিন