যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ আমদানিতে শতভাগ শুল্ক, বাংলাদেশের রফতানিতে কী প্রভাব পড়বে?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সব ধরনের ওষুধ আমদানির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশটির প্রশাসন ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।
বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধীরে ধীরে বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান শক্ত করছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো অন্যতম প্রধান রফতানি গন্তব্য। তাই প্রশ্ন উঠছে—ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের (আইটিসি) তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত ওষুধের বাজার দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ২৬৬ কোটি ৭ লাখ ডলার। অথচ ২০২০ সালে এই অঙ্ক ছিল ১৩ হাজার ৯৪৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ আমদানির চাহিদা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তবে বাংলাদেশ থেকে রফতানির চিত্র কিছুটা ভিন্ন। গেল অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১ কোটি ৮৮ লাখ ডলারের ওষুধ রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৬ লাখ ডলার কম।
বাংলাদেশের শিল্প উদ্যোক্তারা অবশ্য মনে করেন, মার্কিন শতভাগ শুল্কে দেশের ওষুধ খাত বড় ধাক্কা খাবে না। বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির নির্বাহী সদস্য কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমানের ভাষায়, “এই সিদ্ধান্তে ভারত ও চীন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কিন্তু বাংলাদেশের ওপর প্রভাব তুলনামূলক কম পড়বে। উল্টো সরকারের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উদ্যোগের কারণে কিছু বাড়তি সুযোগও তৈরি হতে পারে।”
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, বিকল্প বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠবে। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, উচ্চশুল্কে ওষুধ কিনতে গিয়ে মার্কিন ক্রেতাদের জন্য বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল হতে পারে, যা একটি ইতিবাচক দিক। কিন্তু ভারত ও চীনের বিপরীতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সহজ হবে না।

মতামত দিন