ব্যবসায়-বাণিজ্য
ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্র বাণিজ্যে গতি আনতে পাঁচ নতুন জাহাজ আসছে বাংলাদেশের বহরে।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

দেশের সমুদ্র পরিবহন খাতে শিগগিরই যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন জাহাজ। আগামী অক্টোবরেই চীনে নির্মিত দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) বহরে আসছে।

এরপর চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও তিনটি জাহাজ কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে করপোরেশনকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার এই কেনাকাটার ব্যয় মূলত রাষ্ট্র বহন করবে, সামান্য অংশ যোগ হবে বিএসসির নিজস্ব তহবিল থেকে।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, আর্থিক প্রস্তাব ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা মিলিয়ে যে কোম্পানি সর্বোত্তম অফার দেবে, সেখান থেকেই জাহাজ কেনা হবে।

এদিকে শুল্ক প্রত্যাহারের পর বেসরকারি পর্যায়েও জাহাজ কেনার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকার হঠাৎ করে ৭.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় বেসরকারি মালিকরা কেনাকাটা বন্ধ রেখেছিলেন। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত বদলে শুল্ক প্রত্যাহার করায় আবার সক্রিয় হয়েছে প্রাইভেট কোম্পানিগুলো। চট্টগ্রাম মেরিটাইম দফতরের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদ জানান, ওমেরা শিপিং “ওমেরা গ্যালাক্সি” নামে এক লাখ টনের বেশি বহনক্ষম একটি মাদার ট্যাংকার কিনছে। একই সময়ে ভ্যানগার্ড মেরিটাইমও আনছে প্রায় ৬০ হাজার টনের একটি বাল্ক ক্যারিয়ার।

নৌপরিবহন অধিদফতরের তথ্যমতে, খুব শিগগিরই ওমেরা ও ভ্যানগার্ডের এ দুই জাহাজ বহরে যুক্ত হবে। অন্যদিকে ডিসেম্বরের মধ্যে বিএসসি তিনটি জাহাজ যোগ করবে—দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার ও একটি তেলবাহী ট্যাংকার।

মার্চেন্ট মেরিন অফিসারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরীর মতে, নতুন পাঁচটি জাহাজ দেশের কার্গো পরিবহন সক্ষমতা বাড়াবে এবং একাধিক ট্রেড রুটে ব্যবহৃত হবে। এতে আমদানি-রপ্তানি উভয় খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বর্তমানে বাংলাদেশের নিজস্ব জাহাজে দেশের মোট আমদানি-রপ্তানির মাত্র ১১ শতাংশ বহন করা সম্ভব হচ্ছে। অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অন্তত ৪০ শতাংশ পরিবহন নিজস্ব বহরে হওয়া উচিত। জাহাজের ঘাটতির কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশি মালিকদের কাছে গচ্ছা দিতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. আরিফ বলেন, দেশীয় পতাকাবাহী জাহাজ যত বাড়বে, ততই বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আঙ্কটার্ডের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জাহাজ মালিকানার দিক থেকে ৩৫তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে এই তালিকায় পণ্যবাহী জাহাজের পাশাপাশি মাছ ধরার নৌযানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মতামত দিন