আগারগাঁওয়ে ‘মিট দ্য বিজনেস’ অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও এনবিআরের প্রতিক্রিয়া।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ:
-
শুল্ক–কর প্রদানের সময় হয়রানি ও নিয়মের অসামঞ্জস্যতা।
-
টার্নওভার করের উচ্চহার ও অগ্রিম আয়কর সমন্বয়ে ব্যবসায়ীদের চাপ বৃদ্ধি।
-
ভুয়া মামলা, দীর্ঘসূত্রতা ও সার্ভার সমস্যা।
-
কাস্টমস ও বন্দরে পণ্যের জটিলতা।
-
এনবিআরের কর্মকর্তাদের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং চাঁদাবাজি।
নাসির খান, জেনিস সুজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বলেন, চামড়াশিল্পকে ছোট করে ফেলা হয়েছে এবং করের চাপ ব্যবসায়ীদের ওপর অযথা বৃদ্ধি পাচ্ছে। লাভ না থাকলেও কর দিতে হচ্ছে, আর ভুয়া মামলার কারণে দীর্ঘকাল আদালতে লড়াই করতে হয়।
প্রীতি চক্রবর্তী, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, উল্লেখ করেন, আয়কর আইনে পূর্বে তিন বছরের মধ্যে সুদ পরিশোধের সুবিধা বাতিল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ইমরান হাসান, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব, বলেন, ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে নতুন নতুন নিয়ম প্রয়োগ ব্যবসায়ীদের জন্য চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। তিনি অভিযোগ করেন, কর ও ভ্যাট আদায়ের মাত্র ২০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা হয়, বাকি টাকা কর্মকর্তাদের ও কিছু ব্যবসায়ীর যোগসাজশে আত্মসাৎ হয়।
যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, বন্দরে পচনশীল পণ্য আটকে যায় কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণে। অনুমোদন না দিয়ে কর্মকর্তারা অফিস ছেড়ে চলে গেলে পণ্য নষ্ট হয়।
এনবিআরের প্রতিক্রিয়া:
চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান স্বীকার করেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা ব্যবসায়ীদের ক্ষতির কারণ হয়। তিনি জানান, অনিয়মের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ব্যবসায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া এনবিআরের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সরাসরি অভিযোগ করার সুযোগ থাকবে।
চেয়ারম্যান আরও জানান, কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা নির্দেশনা মানেন না, তবে ব্যবসায়ীদেরও সোচ্চার হতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি হালনাগাদ এইচএস কোড সমস্যার সমাধানের প্রক্রিয়া তুলে ধরেন।
সংস্কার ও উদ্যোগ:
-
কর প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি।
-
নন–বন্ডেড রপ্তানিকারকরা ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে কাঁচামাল ছাড়তে পারবে।
-
হিমায়িত মাছ রপ্তানিকারকদের বন্ড সুবিধার আওতায় আনার সম্ভাবনা।
-
বন্ড প্রক্রিয়ার স্বয়ংক্রিয়করণ করে প্রতিবছর অডিটের সংখ্যা কমানো।
চেয়ারম্যান বলেন, ব্যবসায়ীরা কষ্টার্জিত আয়ের অংশ কর হিসেবে দিচ্ছেন, তাই তাঁদের প্রতি ন্যায্য সেবা নিশ্চিত করা ও বৈষম্য কমানো অপরিহার্য।
সমস্ত মিলিয়ে, অনুষ্ঠানটিতে ব্যবসায়ীরা সরাসরি তাঁদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ তুলে এনেছেন, এবং এনবিআর চেয়ারম্যান তা স্বীকার করে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

মতামত দিন