ব্যবসায়-বাণিজ্য
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন বাজারে শুল্ক সুবিধায় বাড়তি স্বস্তি, তবে সংকটে প্রস্তুতকারকরা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তুলনামূলক কম শুল্কহার কাজে লাগাতে শুরু করেছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত। বর্তমানে মোট রফতানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যায় যুক্তরাষ্ট্রে।

যেখানে চীনকে ৩০ শতাংশ আর ভারতকে ৫০ শতাংশ শুল্ক গুনতে হয়, সেখানে বাংলাদেশের হার অনেক কম। ফলে ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে। প্রতিযোগিতার দিক থেকে ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক হার এখন সমান পর্যায়ে।

তবে উদ্যোক্তাদের শঙ্কা—চাহিদা যতই বাড়ুক, বিদ্যুৎ, জ্বালানি আর ব্যাংকিং খাতে চলমান সংকট মোকাবিলা না করলে এই সুযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ব্যাংকিং সঙ্কটই এখন সবচেয়ে বড় বাধা। ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির অর্থপ্রদান সময়মতো না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ড্যাশবোর্ডে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নামে ‘রেডমার্ক’ উঠে যায়। একবার এই অবস্থা হলে সব ব্যাংকেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে, বিজিএমইএ’র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বাবলুর অভিযোগ, উচ্চ সুদের হার ছোট ও মাঝারি আকারের কারখানাগুলোকে টিকিয়ে রাখা দুষ্কর করে তুলেছে। তার ভাষায়, “১৩-১৪ শতাংশ সুদে ব্যবসা করলে এ শিল্প কীভাবে প্রতিযোগিতা করবে?”

পুরনো সমস্যা গ্যাস ও বিদ্যুতেও অচলাবস্থা রয়ে গেছে। বিদ্যুতে কিছুটা উন্নতি হলেও গ্যাসের সরবরাহ এখনও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে উৎপাদনকে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ধীরগতি নিয়েও ক্ষোভ আছে উদ্যোক্তাদের। বাবলুর মতে, আউটার এংকারেজে জাহাজকে  বসে থাকতে হয় প্রায় দুই সপ্তাহ, ভেতরে ঢুকলেও মাল খালাস করতে সময় লাগে স্বাভাবিকের দ্বিগুণ। এতে  পুরো উৎপাদন ও রফতানি চক্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে, সরকার অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবা জোরদারের নানা উদ্যোগ হাতে নিলেও, ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা—সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে মার্কিন বাজারের সুযোগ অন্য প্রতিযোগীদের হাতে চলে যেতে পারে।

মতামত দিন