ব্যবসায়-বাণিজ্য
ছবি: সংগৃহীত

৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব পেলো বিডা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট নিরসন প্রসঙ্গেও সভায় দীর্ঘ আলোচনা হয়। সেখানে জানানো হয়, বন্দরে  প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কন্টেইনার দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে।
গত দুই মাসে এক হাজার কন্টেইনার নিলামে  বিক্রি করা হয়েছে। আগামী মাসে আরও ৫০০ কন্টেইনার নিলামে তোলার প্রস্তুতি চলছে।

সভায় বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টাল (বিবিপি) চালুর অগ্রগতির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বিডা, বেজা, বেপজা  ও বিসিকের সেবা একত্রিত করে সমন্বিত প্ল্যাটফর্মটি চালু করার কাজ প্রায় শেষের দিকে। আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সফট লঞ্চ এবং মাসের শেষ নাগাদ পূর্ণাঙ্গ উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির ৫ম সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিডা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে মোট ১.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের  বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে—যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এর মধ্যে ৪৬৫ মিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ, স্থানীয় বিনিয়োগ ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবং যৌথ বিনিয়োগ ৮৫ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব।

বিদেশি বিনিয়োগে সর্বাধিক অংশ চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এসেছে—প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব পাওয়া গেছে।

বিডা’র তথ্যমতে, ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবের মধ্যে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়েছে ২৩১ মিলিয়ন ডলার। প্রাথমিক থেকে চূড়ান্ত রূপান্তরের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড় (১৫–২০ শতাংশ) এর কাছাকাছি।

সভায় বিশেষ দূত নিলাম কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানান, নিলামের পণ্য হস্তান্তরের কাজও সমান্তরালভাবে চলছে।

মতামত দিন