কনটেইনার সংকট নিরসনে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেমেছে চট্টগ্রাম বন্দর।
দেশের আমদানি-রফতানির গতি ধরে রাখতে এবং দীর্ঘদিনের কনটেইনার জট কমাতে অবশেষে বড় উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের ধারণক্ষমতা দ্রুত শেষ হয়ে আসায় এবার অচল পড়ে থাকা শেডগুলোকে ইয়ার্ডে রূপান্তর করে কনটেইনার রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের পুরনো জেনারেল কার্গো বার্থে রাখা যায় ১৯ হাজার ৮০৮ টিইইউএস, আর নতুন এনসিটি ইয়ার্ডে রয়েছে ১৩ হাজার ৮৭৬ টিইইউএস ধারণক্ষমতা। পাশাপাশি কনটেইনার টার্মিনাল, নিউমুরিং, সাউথ ও নর্থ ইয়ার্ড মিলিয়ে মোট ধারণক্ষমতা দাঁড়ায় প্রায় ৫৩ হাজার ৫০০ টিইইউএস। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের চাপের তুলনায় এই সংখ্যা অনেকটাই অপ্রতুল হয়ে পড়েছে। এমএসসি শিপিংয়ের কর্মকর্তা আজমীর হোসাইন চৌধুরীর মতে, বন্দরের অবকাঠামো ও হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ব্যবসার সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি, ফলে জাহাজের বার্থিংয়ে জট তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ অকেজো পড়ে থাকা এক্স-ওয়াই শেড, পুরোনো অকশন শেড, গাড়ি রাখার শেড এবং ব্যাগেজ শেড নতুনভাবে কাজে লাগাচ্ছে। কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, এসব শেডে অতিরিক্ত অন্তত ছয় হাজার কনটেইনার সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে। সচিব ওমর ফারুকের ভাষায়, ধারণক্ষমতা বাড়ানো গেলে আমদানি-রফতানিকারকরা নির্দিষ্ট সময়ে কনটেইনার ডেলিভারি পাবেন, দেরি বা জটিলতা কমে আসবে।
মাত্র ছয়টি কনটেইনার ওঠানামা দিয়ে যাত্রা শুরু করা চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান ধারণক্ষমতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টিইইউএস। নতুন শেড নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে; এ বছর আরও চার হাজার ধারণক্ষমতার একটি শেড ও ছয় হাজার রফতানিমুখী কনটেইনার রাখার আরেকটি শেড চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিবছর বন্দরে ৩২ লাখেরও বেশি কনটেইনার ওঠানামা করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নতুন ইয়ার্ড নয়, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও গেট সিস্টেম আধুনিক করলেই প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে। রিলায়েন্স শিপিংয়ের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহেদ আলমের মতে, দ্রুত প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রক্রিয়া সহজ না হলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না।
বর্তমানে বিভিন্ন ইয়ার্ডে রয়েছে প্রায় ৪৩ হাজার ৪৪৮ টিইইউএস কনটেইনার, আর বন্দরের জেটি ও বহিঃনোঙরে অবস্থান করছে আরও ১৩টি কনটেইনারবাহী জাহাজ।
মতামত দিন